শ্রীনগর: পাকিস্তানের অধিকৃত হোরণ গ্রাম৷ এই গ্রামে ভারতীয় সেনার উইং কমান্ডর অভিনন্দন প্যারাশুট দিয়ে ঝাঁপ মারে৷ এই গ্রাম পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত৷ এখানকার রাস্তা ঘাট বাঁকা৷ এই গ্রাম থেকে প্রায় ২৫০ মিটারের দুরত্বে পাকিস্তানের বিমানের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে অভিনন্দনের বিমান ক্র্যাশ করে৷ বিমান ক্র্যাশ হতেই এই গ্রামের একটি পাহাড়ে প্যারাশুট দিয়ে নামে৷

‘আজতক’ সংবাদমাধ্যেমের খবর অনুযায়ী এই গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিনন্দনকে পাহাড়ে নামতে দেখেন৷ অভিনন্দনের বিমান ক্র্যাশ হওয়ায় পুরো গ্রাম কেঁপে ওঠে৷ বিমানটি পড়তেই এলাকার গাছ-পালা পুড়ে ছাই হয়ে যায়৷ ঘটনার এতদিন পরেও সেই দিনের ঘটনার প্রমাণ এই জায়গায় দেখা যাচ্ছে বলে এই সংবাদমাধ্যমটি দাবি করে৷

এই খবরের অনুয়ায়ী জানা যাচ্ছে গ্রামের এই বাসিন্দা কামরান আকাশের এই যুদ্ধের প্রত্যক্ষ করেছিল সেইদিন৷ ২৭শে ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা বেজে ৪৫ মিনিট নাগাদ এই দৃশ্য আকাশে দেখতে পায় সে বলে দাবি এই সমবাদমাধ্যমের৷ কামরান জানায় কমপক্ষে ৬টি বিমান অন্য একটি বিমানকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছিল৷ এই বিমানটি পাহাড়ের পিছন দিক থেকে এসেছিল বলে দাবি৷ অভিনন্দন এই ৬টি বিমানের সঙ্গে একাই লড়ছিল বলে জানায় সে৷ তার সামনেই অভিনন্দন প্যারাশুটের সাহায্যে নিচে নামে৷ অভিনন্দন জানত না সে শত্রু দেশের মাটিতে নেমেছেন৷

প্রত্যক্ষদর্শী এই সংবাদমাধ্যমকে জানায় সে একজন ব্যক্তিকে প্যারাশুটের সাহায্যে নামতে দেখে৷ তার কাছে যাওয়া সম্ভব হয়নি৷ তার কারণ সেই ব্যক্তির কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল৷ এই এলাকার বাসিন্দারা বুঝে গিয়েছিল এই ব্যক্তি ভারতীয়৷ তবে পাকিস্তানি সেনার মতো এই এলাকার বাসিন্দারাও সেই ব্যক্তিকে ঘিরে ফেলতে চাইছিল বলে জানায় কামরান৷ তাই তারা অভিনন্দনকে মিথ্যা বলে যে এই এলাকা ভারতের মধ্যে৷ সে জানায় অভিনন্দন তাদের কাছে জল চায়৷ মোবাইলও চান৷

কামরান জানায় তারা অভিনন্দনকে অস্ত্র ফেলতে বলে৷ অস্ত্র ফেলে দিলে তারা অভিনন্দনকে জল এবং মোবাইল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়৷ তিনি বলেন তার কোমরে খুব যন্ত্রনা হচ্ছিল৷ অভিনন্দনকে তারা বলেন তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হবে৷ তারপর অভিনন্দন জিজ্ঞাশা করে এই এলাকা ভারতে নাকি পাকিস্তানে বলে কামরান এই সংবাদমাধ্যমকে জানায়৷ তারা উত্তরে মিথ্যা বলে৷ অভিনন্দনকে এই এলাকার বাসিন্দারা বলে এই জায়গা ভারতের মধ্যে৷ তবে তাদের এই চাল অভিনন্দন বুঝে যায়৷ তাদের চাল বানছাল করতে অভিনন্দন ভারত মাতা কি জয় বলে ওঠে৷

অভিনন্দন পাকিস্তানের মাটিতে রয়েছে বুঝতে পেরেই সে প্রথমে ৩-৪টে নথিপত্র বের করে চিবিয়ে ফেলে৷ যেগুলিতে ভারতীয় বায়ু সেনার গুরুত্বপুর্ণ তথ্য ছিল৷ পাকিস্তানি রা বুঝে যায় যে অভিনন্দন তাদের মিথ্যে ধরে ফেলেছে৷ তার পরেও তারা তার কাছে যাওয়ার সাহস পাইনা৷ তার কারন অভিনন্দনের কাছে আগ্নেযাস্ত্র ছিল৷ তাবে হাত থেকে অস্ত্র ফেলতেই তাকে তারা করে এই ভিড়৷

প্রত্যক্ষদর্শী জানায় অভিনন্দনের পায়ের কাছে গুলি মারে এই ভিড় থেকে কেই ৷ তার পরে সে পাসের একটি পুকুরে ঝাঁপ মারে৷ এি এলাকা থেকেই পাকিস্তানি সেনা তাকে ধরে নিয়ে যায়৷ এই খবর পাকিস্তানে আগুনের মতো ছড়িয়ে পরে৷ সেনা প্রাথমিকভাবে এই খবর অর্ধেক পায়৷ সেই কারনে পাকিস্তানি সেনা প্রথমে বলে দুই জন ভারতীয় পায়লট ধরা পরেছে৷ তবে তারা শুধু অভিনন্দনকেই ধরে৷