অভিষেক কোলে: প্রথমত, নক-আউটের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে জিততেই হবে। দ্বিতীয়ত, জিততে হলে রেকর্ড রান তাড়া করতে হবে। ইডেনে দিল্লির বিরুদ্ধে শেষ ইনিংসে এমনই কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল বাংলার ব্যাটসম্যানদের সামনে। চ্যালেঞ্জটা যথাযথ গ্রহণ করেন অভিমন্যু ঈশ্বরণ-অভিষেক রামনরা।

বিশেষ করে ইন্ডিয়া-এ টিমের নিয়মিত সদস্য ঈশ্বরণের দুরন্ত প্রতিরোধ দিল্লি বোলারদের যাবতীয় উদ্যমে জল ঢেলে দেয়। প্রবল চাপ মাথায় নিয়ে প্রয়োজনের সময় ঈশ্বরণ অনবদ্য শতরান করে বাংলাকে জয়ের মঞ্চ প্রস্তুত করে দেন।

আরও পড়ুন: ক্রিকেটের স্বর্গোদ্যানে ঐতিহাসিক ‘দিল্লি জয়’ বাংলার

যদিও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অভিমন্যু প্রতিপক্ষের চক্রব্যুহ ভেদ করেছেন আগেও। চলতি মরশুমে বাংলার সবথেকে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান ঈশ্বরণই। রঞ্জির যতগুলি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন তিনি, অন্তত একটি করে হাফসেঞ্চুরি করে তবেই মাঠ ছেড়েছেন। বুধবার ক্রিকেটের স্বর্গোদ্যান সাক্ষী থাকল তাঁর রাজকীয় ইনিংসের৷

হিমাচলের বিরুদ্ধে দুই ইনিংসে ঈশ্বরণের ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল যথাক্রমে ২১ ও ৭৬। মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে একমাত্র ইনিংসে অভিমন্যু করেন ৮৬ রান। কেরল ও তামিলনাড়ুর বিরুদ্ধে তিনি মাঠে নামতে পারেননি ভারতীয়-এ দলের হয়ে নিউজিল্যান্ড সফরে ব্যস্ত ছিলেন বলে। কিউই-এ দলের বিরুদ্ধে দ্রাবিড়ের কোচিংয়েও নজর কাড়েন বাংলার এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান৷

আরও পড়ুন: দিল্লি জয়ে দৃঢ়প্রত্যয়ী দিন্দা

নিউজিল্যান্ড সফর থেকে ফিরে এসে বাংলার জার্সি গায়ে চাপিয়ে দারণ সফল ঈশ্বরণের ব্যাট৷ হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে কেরিয়ারের সেরা ১৮৬ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে চেন্নাইয়ে বাংলাকে দারুণ জয় উপহার দেন দলের তারকা ওপেনার। যদিও দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২ রানে আউট হয়েছিলেন তিনি।

অন্ধ্রর বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে (২) ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৭ রান করেন অভিমন্যু। এবার দিল্লির বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ৪০ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে অবিস্মরণীয় সেঞ্চুরি। মূলত ঈশ্বরণের ব্যাটে ভর করেই দিল্লির বিরুদ্ধে ৬ পয়েন্ট নিশ্চিত করে বাংলা। অভিমন্যু শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ১৮৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে৷