কলকাতা:  বেশের মৃত্যুরহস্য অধরা। তা বলে তদন্তে ঢিলে দেয়নি লালবাজার৷ আজ মঙ্গলবার একটি হারানো সূত্রের খোঁজে দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম খানদানি ক্লাব প্রিন্সটন ক্লাবে যান কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের (স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট) অফিসাররা। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, সানি পার্কের বহুতলে পার্টিতে যাওয়ার আগে ওই ক্লাবে দীর্ঘক্ষণ বন্ধুদের সঙ্গে কাটিয়েছিল আবেশ। সেখানে তারা মধ্যাহ্নভোজনও সেরেছিল। কখন আবেশ ওই ক্লাবে গিয়েছিল, সঙ্গে কে কে ছিল, কতক্ষণ ক্লাবে ছিল তারা, সেই সময় অপরিচিত কেউ আবেশকে ডাকতে এসেছিল কি না, ক্লাবের কর্তৃপক্ষ থেকে কর্মচারী সহ উপস্থিত সবাইকে এ বিষয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলে জানা গিয়েছে। এই ক্লাবের সিসিটিভি ফুটেজও নাকি পুলিশের হাতে এসেছে। তারা তা খুঁটিয়ে দেখছে৷ যদিও অপর একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্লাবের যে জায়গায় আবেশ আর তার বন্ধুরা ছিল সেখানে সিসিটিভি-র ক্যামেরা ছিল না। তাও সিটের অফিসাররা হাল ছাড়ছেন না বলে জানা গিয়েছে।

abesh

আবেশ-মৃত্যুরহস্য ভেদে সোমবারই এই বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে লালবাজার। ফের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সানি পার্কের বহুতলে যায় সিট। দীর্ঘক্ষণ ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে তারা। শুধু ঘুরে দেখাই নয়, বেশ কিছু নতুন নমুনাও তদন্তকারী অফিসাররা সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে লালবাজারের মনে হয়েছিল, এটা দুর্ঘটনা৷ তবু এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার আগে তারা কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না। আর সেই কারণেই আজ মঙ্গলবার আবেশের সাত বন্ধুকে কলকাতা পুলিশের সদর দফতরে ডেকে পাঠানো হয়। দীর্ঘক্ষণ জেরা চলে। জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন অর্থাৎ আবেশের মৃত্যুর দিন তার সঙ্গেই ছিল এই সাতজন। সারা দিন তারা কোথায় কোথায় গিয়েছে, কী কী করেছে, এই সাতজনকে জেরা করে তা জানার চেষ্টা করেছেন তদন্তকারীরা দলের অফিসাররা। শুধু ওই সাত বন্ধুকেই নয়, ডেকে পাঠানো হয় যে বহুতলে আবেশের অকালমৃত্যু ঘটেছে, সেখানকার অন্যতম বাসিন্দা, ভারতীয় ইংরেজি ধারার লেখক অমিত চৌধুরীকেও। এই অ্যাপার্টমেন্টের বেসমেন্টেই সেদিনকার পার্টিতে বন্ধুদের সঙ্গে মত্ত অবস্থায় ছিল আবেশ। সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে৷ যেদিন পার্টি চলছিল সেদিন তিনি নিজে কোথায় ছিলেন, এই পার্টির ব্যাপারে তিনি কিছু জানতেন কি না, এই বিষয়েই লেখককে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল৷

লালবাজার থেকে বেরিয়ে আবেশের বন্ধুরা সংবাদমাধ্যমকে জানায়, আবেশ তাদের ছোটবেলার বন্ধু। তারাও চায় সেদিন কী ঘটেছিল তা সামনে আসুক।

পাশাপাশি, এদিন আবেশের বাড়ি যান টলিউডের অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। জানা গিয়েছে, সম্পর্কে তিনি এই পরিবারের আত্মীয়৷ কথা বলেন আবেশের মা রিমঝিম দাশগুপ্তর সঙ্গেও। পরে বেরিয়ে সংবাদ মাধ্যমের কাছে জানান, আমরা চাই সমস্ত সত্য উঠে আসুক। আবেশ সঠিক বিচার পাক। যেভাবে তার মৃত্যু হয়েছে কোনও ভাবেই তা মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টি নিছক দুর্ঘটনা বলে তিনিও মনে করেন না।

শুধু ঋতুপর্ণা নন, আবেশের মৃত্যু সম্পর্কে সঠিক তথ্য উঠে আসা উচিত বলে মনে করেন সত্যজিৎ-পুত্র তথা চলচ্চিত্র পরিচালক সন্দীপ রায়ও। একটি ইংরেজি দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশকে নিরপেক্ষ তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমাদের আস্থা রয়েছে, তদন্তে সঠিক সত্য উঠে আসবে।

এদিন সন্ধ্যায় আবেশের বাড়িতে যান কলকাতা পুলিশে ডিসি ডিডি ২-এর নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল৷ আবেশে মায়ের সঙ্গে কথাও বলেন লালবাজারের কর্তারা৷ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেন তাঁরা৷