স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় হারের জন্য দলের শীর্ষ ও রাজ্য স্তরের নেতাদের তুলোধনা করলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান।‌ তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসের সুবিধাভোগী কিছু নেতা শুধুমাত্র গান্ধী পরিবার ও কিছু দিল্লির নেতাকে তোষামোদ করার কাজেই ব্যস্ত৷ আসল কাজে তাঁদের মন নেই৷ এই নেতাদের জন্যই প্রকৃত সক্রিয় কংগ্রেস নেতা ও কর্মীদের মধ্যে হতাশা আসে।

এবারেও কংগ্রেসকে একেবারে খালি হাতে ফিরিয়েছে দিল্লিবাসী। তাদের ভোটও কমেছে৷ ২০১৫ সালে যেখানে কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ৯.৭ শতাংশ। এবার তা অর্ধেক হয়ে দাঁড়িয়েছে ৪.২৭ শতাংশ। বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতি প্রকাশ করে আব্দুল মান্নান বলেন, “দুর্ভাগ্য আজ এমন কিছু নেতা কেন্দ্রীয় বা রাজ্য পর্যায়ে কংগ্রেসের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যাদের কোনও যোগ্যতাই নেই শুধু দিল্লির কোনও নেতাকেই যে কোন প্রকারে সন্তুষ্ট করতে পারলেই হল, তাহলে কেন্দ্রীয় নেতা হয়ে যাবেন বিধানসভা/ লোকসভা/ রাজ্যসভায় মনোনয়ন পেয়ে যাবেন কিংবা এ, আই, সি, সি র পর্যবেক্ষক নিযুক্ত হয়ে কোনো না কোনো প্রদেশ কংগ্রেসে মাতব্বরি করার সুযোগ পান। কিছু না হলেও প্রদেশের কংগ্রেসের নেতা হয়ে যাবেন ।”

তিনি আরও বলেন, “কি লোকসভা কি বিধানসভা নির্বাচনে বিভিন্ন রাজ্যে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের এই শোচনীয় ফলাফলের কারন বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিশ্লেষনের আশু প্রয়োজন। দেশকে স্বাধীন করার জন্য এবং স্বাধীনতা উত্তর ভারতবর্ষকে আধুনিক উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে, দেশের গণতন্ত্র ও জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করতে অসংখ্য জাতীয় নেতা এবং লাখো লাখো কংগ্রেস কর্মী সহ নেহেরু-গান্ধী পরিবারের কয়েক প্রজন্ম যে ত্যাগ স্বীকার এমনকি আত্মবলি দান করেছেন তার কোনও নজির অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীর মধ্যে নেই। তাই এই পরিবারের নেতৃত্ব দেশ তথা জাতীয় কংগ্রেসের সম্পদ।”

মান্নানের মন্তব্য, “এলাকায় কংগ্রেসের কেউ না চিনলেও বা এলাকায় কংগ্রেস না করলেও তাতে এইসব লোকের নেতা হতে কোনও অসুবিধা হয় ন। এজন্য তৃণমূল স্তরের প্রকৃত সক্রিয় কংগ্রেস নেতা ও কর্মীদের মধ্যে হতাশা আসে। ফলে কংগ্রেসের এইরকম শোচনীয় বিপর্যয় আসে।” তবে ওই বিবৃতিতে গাঁধী পরিবারের প্রতি আস্থা জ্ঞাপন করে তিনি বলেছেন, “আমাদের দলের এত সম্পদ থাকা সত্বেও সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, মনমোহন সিংহ, প্রিয়াংকা গান্ধীরর মত জনপ্রিয় নেতৃবৃন্দ থাকলেও ভুঁইফোঁড় কিছু আপদ তথাকথিত স্বঘোষিত নেতারাই দলের সর্বনাশ করছে ।”

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা