চণ্ডীগড়: গণধর্ষণের অভিযোগে ১০ ব্যক্তিকে আটক করল হরিয়ানা পুলিশ। এরপরেই সামনে এল এক ভয়াবহ ঘটনা। ৮ বছর আগে মহারাষ্ট্র থেকে কিডন্যাপ করা হয় ওই যুবতিকে। এরপর তাঁকে গণধর্ষণের পাশাপাশি চার বার বিক্রিও করা হয়। ওই যুবতির এখন বয়স ২১ বছর। সে এখন দুই সন্তানের মা। গোটা ঘটনায় ফের একবার লজ্জায় মুখ ঢেকেছে দেশ। বেআব্রু হয়েছে নিরাপত্তার গলদ।

ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসে যখন, সুনীতা শুটার ওরফে কিংপিং নামে অভিযুক্তের কাজকর্ম তার বড়িওয়ালার কাছে যথেষ্ট সন্দেহজনক মনে হয়। এই কিংপিং বা সুনীতা আসলে হিমাচল প্রদেশের বাসিন্দা। তার টেলিফোনে কথোপকথনের পর তার বাড়িওয়ালা বুঝতে পারে নির্যাতিতা তরুণীকে অন্য একজনের কাছে বিক্রি করতে চলেছে অভিযুক্ত। এরপর তিনি একটি এনজিও-কে ওই ঘটনার কথা জানান।

এলাকার ওই এনজিও ওই নির্যাতিতা তরুণীর কাছে ব্যাপারটা সম্পর্কে জানতে চাইতেই বেরিয়ে আসে আসল তথ্য ! জানা যায়, ভয়াবহ ঘটনা। এরপর নারী পাচারের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয় হরিয়ানাতে।

কাউন্সিলিংয়ের সময় নির্যাতিতা তরুণী জানিয়েছেন, মাত্র ১৩ বছর বয়সে মহারাষ্ট্রের একটি মন্দির থেকে অপহরণ করা হয় তাঁকে। এরপর তাঁকে ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া হয় অপর এক ব্যক্তির কাছে। পুলিশের কাছে ওই যুবতির অভিযোগ, তাঁকে মোট চারবার আলাদা আলাদা ব্যাক্তির কাছে বিক্রি করা হয়। চারজনের কাছে গণধর্ষণের অভিযোগ করে ওই যুবতি। এরপর ফের একবার তাঁকে বিক্রি করা হয় হরিয়ানার ৪২ বছরর এক ব্যক্তির কাছে। ওই ব্যক্তি টানা ২০ দিন তাঁকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন – পেঁয়াজের ঝাঁঝালো সেঞ্চুরির একমাস পূর্ণ, পালাবার পথ খুঁজছে আমজনতা

কিন্তু এখানেই দুঃস্বপ্নের শেষ ছিল না। এরপর যুবতিকে তুলে দেওয়া হয় নারায়ণগড়ের এক ব্যাক্তির হাতে ২০,০০০ টাকার বিনিময়ে। সেখানে টানা ৭ দিন ধর্ষণের অভিযোগ করে ওই নির্যাতিতা তরুণী। এরপর ফের একবার তাঁকে দেড় লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয় ধর্মবীর নামে এক ব্যক্তির কাছেও। যুবতির অভিযোগ, সেখানে ধর্মবীর ও তার দুই ভাইয়ের কাছে লাগাতার ধর্ষণের শিকার হয় সে।

যমুনানগর মহিলা পুলিশ স্টেশনে এই এফআইআর দায়ের করা হয়। সেখানে বলা হয়, ধর্ষণের ফলে যখন ওই যুবতি গর্ভবতী হয়ে পড়েছিল, সেই সময়ও লাগাতার ভাবে তাঁকে ধর্ষণ করে ধর্মবীরের ভাই কৃষাণ শেরওয়ান। এফআইআরে ওই যুবতি নিজেকে ধর্মবীরের স্ত্রী বলে পরিচয় দিয়ে ধর্মবীরের পরিবারের বিরুদ্ধে ব্ল্যাক্মেইলিং-এর অভিযোগ এনেছে।

নির্যাতিতা তরুণী অপহরণের আগে তার মা ও ভাইয়ের সঙ্গেই থাক্ত। তার মা একজন গৃহবধূ ছিলেন। কিন্তু ৯ বছর অতিনাহিত হলেও নিজের মোবাইল নম্বর পালটে ফেলননি তার মা। কারণ তার বিশ্বাস ছিল, তার মেয়ে তাঁকে একদিন ওই নম্বরে ফোন করবে।

পুলিশ এই ঘটনায় মোট ১০ জনকে আটক করেছে। এরমধ্যে মহিলা ও পুরুষ উভয়েই রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ধারা সহ পসকো ধারায় মামলা রজু করা হয়েছে।