কেপ টাউন: গত বছর মে মাসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তাঁর হঠাৎ অবসরে অবাক হয়েছিল ক্রিকেটবিশ্ব৷ ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলার ইচ্ছে থাকলেও সমালোচনার জন্য অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানা এবি ডি’ভিলায়র্স৷

ঠিক এক বছর পরে বিশ্বকাপ৷ কিন্তু তার আগেই ডি’ভিলিয়ার্সের অবসর অবাক করেছিল বিশেজ্ঞদের৷ এমনটা না-হলে হয়তো ৩০ মে কেনিংটন ওভালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সি গায়ে টস করতে নামতেন এবিডি৷ কিন্তু দেশের হয়ে ১১৪টি টেস্ট, ২২৮টি ওয়ান ডে এবং ৭৮টি টি-২০ ম্যাচ খেলা মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রি সকলকে চমকে গত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানিয়ে বসেন৷

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও বিশ্বজুরে টি-২০ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলে চলেছেন এবিডি৷ সদ্য বিশ্বের সেরা টি-২০ লিগ আইপিএল খেলে দেশে ফিরেছেন ডি’ভিলিয়ার্স৷ ফ্যাফ ডু’প্লেসিরা বিশ্বকাপের জন্য যখন ইংল্যান্ডের বিমান ধরছেন, তখন বিশ্বকাপ খেলতে না-পারার আক্ষেপ ধরা পড়ে এবিডি’র গলায়৷

সম্প্রতি ‘ব্রেকফাস্ট উইছ চ্যাম্পিয়ন্স’-এর এক এপিসোডে প্রাক্তন প্রোটিয়া অধিনায়ক জানান, ‘বিশ্বকাপ খেলার ইচ্ছে ছিল৷ কিন্তু আমি অবসর নিয়ে নিই৷ পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত সেনসেটিভ৷ গত তিন বছর আমি কেরিয়ারের কঠিন সময়ের মধ্যে কাটিয়েছি৷ বুঝতে পারছিলাম না, আমার কি করা উচিত৷ খেলা চালিয়ে যাওয়া না ছেড়ে দেওয়া৷ কিন্তু দেশের মধ্যে সমালোচনার জন্য খেলা ছাড়তে বাধ্য হই৷ কিন্তু বিশ্বকাপ খেলার ইচ্ছে ছিল৷’

এবিডি আরও বলেন, ‘আমি যেন কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলাম৷ আমি সব সময় টিমের সদস্য ছিলাম৷ কখনও নিজের জন্য ভাবিনি৷ কিন্তু একটা সময় পরিস্থিতি এমন ছিল, যখন নিজেকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হত৷’ এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানিয়ে পরিবারকে সময় দেওয়া সিদ্ধান্ত নেন ডি’ভিলিয়ার্স৷

২০০৪-এ দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে অভিষেক হয় এবিডি’র৷ টেস্টে ৮,৭৬৫ এবং ওয়ান ডে ক্রিকেটে ৯,৫৭৭ এবং আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে১,৬৭২ রান করেন প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান৷ উইকেটের সব দিক দিয়ে বল মারার দক্ষতার জন্য মি. ৩৬০ ডিগ্রি নামে যাকা হয় তাঁকে৷ টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর সর্বোচ্চ স্কোর ২৭৮৷ দেশের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলেছেন গত বছর জো’বার্গে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে৷