নয়াদিল্লি: দিল্লিতে আম আদমি-কংগ্রেস জোট ভেস্তে গিয়েছে৷ স্পষ্ট করে দিয়ে ছিলেন রাজধানীর কংগ্রেস নেত্রী শীলা দীক্ষিত৷ কিন্তু মঙ্গলবার হাত শিবিরকে কেজরীওয়ালের দল আসন সমঝোতা নিয়ে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে৷ যাকে কেন্দ্র করে ফের দুই দলের কাছে আসার সম্ভাবনা ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে৷

আপের প্রস্তাব মিলেছে বলে স্বীকার করেছে কংগেরেস নেতারা৷ বিষয়টি হাইকম্যান্ডকে জানানো হবে৷ কিন্তু জোট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীই৷

কংগ্রেসকে আম আদমি পার্টির প্রস্তাব, দিল্লির পাঁচটি আসনে তারা প্রার্থী দেবে৷ বাকি দুই রাজ্য পাঞ্জাব হরিয়ানাতে তারা যছাক্রমে দুটি ও তিনটি আসনে লড়বে৷ মোট ১০টি আসনে এবারের লোকসভায় লড়াই করতে আগ্রহী কেজরীওয়ালের দল৷ এখন পুরো বিষয়টিই হাত শিবিরের উপর ছেড়ে দিয়েছে তারা৷

কলকাতায় হোক বা রাজধানী৷ বিজেপি বিরোধী মহাজোটের সমাবেশে কংগ্রেসের সঙ্গে এক মঞ্চে দেখা গিয়েছে আম আদমি পার্টির সর্বময় নেতাকে৷ গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বাস্তবতা তারা বুঝতে পারছে৷ যার ইঙ্গিত মিলেছে আপ নেতা সঞ্জয় সিংয়ের মন্তব্যেই৷ তিনি বলেন, ‘‘বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই হওয়া উচিত৷ এর জন্য সব দলকেই ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করতে হবে৷’’

আপের এই প্রস্তাব ঘিরে দলের মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে৷ আঅনেকেই কংগেরেসের সঙ্গে জোটে যওয়ার বদলে একক প্রয়াসে ভোটে লড়ার পক্ষপাতি৷ তাই সঞ্জয় সিংয়ের মন্তব্য কংগ্রেসের সঙ্গেই জোট বিরোধী দলীয় নেতাদেরও বার্তা বলে মনে করা হচ্ছে৷

আরও পড়ুন: কাকলী’র মন্তব্যে সব্যসাচীর দলবদল নিয়ে জোর জল্পনা

উল্লেখ্য, লোকসভা ভোটে বিজেপি বিরোধী মহাজোটের তোড়জোড় শুরু হওয়ার পর থেকেই অরবিন্দ কেজরীওয়াল জোটের পক্ষে সওয়াল করেন৷ কিন্তিু অভিযোগ ছিল, কংগ্রেসের তরফে তেমন আগ্রহ দেকানো হয়নি৷ এই পরিস্থিতিতে প্রথমে দিল্লির সাতটির মধ্যে ছ’টি আসনে প্রার্থীও ঘোষণা করে দেন কেজরীওয়াল। কিন্তু পুলওয়ামায় জঙ্গি হানা এবং এয়ার স্ট্রাইকের পর নতুন পরিস্থিতিতে জোটের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

জল্পনা ছড়িয়েছিল, কংগ্রেস ও আপ তিনটি করে এবং একটি আসনে দু’দলের সমর্থিত প্রার্থী ভোটে লড়বে। এমনকী, দু’দলের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে শত্রুঘ্ন সিনহা এবং যশবন্ত সিনহার নামও আলোচনা উঠে এসেছিল বলে সূত্রের খবর৷

এই অবস্থায় চলতি মাসের ৫ তারিখ দিল্লির কংগ্রেস নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন রাহুল গাঁধী। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা দলের দিল্লির সভাপতি শীলা দীক্ষিত-সহ অন্যান্য নেতা-নেত্রীরা৷ বৈঠকের পর শীলা দীক্ষিত জানান, ‘‘দিল্লিতে আপের সঙ্গে জোট হচ্ছে না। রাহুল গাঁধীর সামনে এ নিয়ে সর্বসম্মত ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’’

এই সিদ্ধান্তের পর দু’দলই পৃথকভাবে নিজেদের প্রচারের কৌশলও স্থির করে ফেলেছে৷ এই অবস্থায় দেশের প্রাচীনতম দলের প্রতি আম আদমি পার্টির নতুন সমঝোতা ঘিরে উঠে আসছে নানা সমীকরণের সূত্র৷