স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আমফান বিধ্বস্ত এলাকায় ত্রাণ ও পুনর্গঠনের জন্য এক হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনুদান ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু কেন্দ্রের এই আর্থিক অনুদান যথেষ্ট নয় বলে মত বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী।

লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী বলেছেন, “মাত্র এক হাজার কোটি টাকায় কিছুই হবে না। আমফানে বাংলার যা ক্ষতি হয়েছে, তার পর বাংলাকে ফের পুরনো জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন‌্য আরও কয়েকগুণ অর্থের প্রয়োজন।” টু‌ইটারে তিনি লিখেছেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী টু‌ইট করে ওড়িশাকে সাহায্যের কথা বললেও বাংলার ক্ষেত্রে শুধু পাশে থাকার কথা বললেন। হাঁসকে যা খাওয়ার দেওয়া হয়, রাজহাঁসের ক্ষেত্রেও ন্যূনতম সেটাই হওয়া উচিত।”

তিনি এও বলেন, “রাজ্যের কী অবস্থা হয়েছে তা তো উনি দেখলেন। তাতে ওঁর কীভাবে মনে হল যে মাত্র এক হাজার কোটি টাকায় সব পুরনো অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাবে?”

কংগ্রেসেরই রাজ্যসভার সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্যের সংযোজন, ‘‘এই হাজার কোটি টাকা কিন্তু নগদ সাহায্য নয়। পুরোটাই হিসেবের অঙ্ক। সাধারণত বাড়ি ভেঙে পড়া বা ফসলের ক্ষতির জন্য যে টাকা দেওয়া হয়, তা আবার অগ্রিম ঘোষণার অঙ্ক থেকে বাদ দেওয়া হয়।’’ সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর দাবি, এই ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেওয়ার জন্য এক হাজার কোটি টাকা নামমাত্র। আরও অনেক গুণ বেশি সাহায্য প্রয়োজন।

শুক্রবার হেলিকপ্টারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে নিয়ে দুই ২৪ পরগনার বিপর্যস্ত এলাকা ঘুরে প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন আরও চার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এর পরে বসির‌হাট কলেজে বৈঠক করেন। সেখানেই প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, শীঘ্রই কেন্দ্রীয় টিম এসে রাজ্যের পরিস্থিতি দেখে ক্ষয়ক্ষতির হিসেব করবে। এর পরে কেন্দ্র অর্থের ব্যবস্থা করবে।

আপাতত কেন্দ্র এক হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে রাজ্যকে। মোদীর এই আর্থিক ঘোষণার পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই প্যাকেজ তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘আমি বলেছি, আপনি কী দেবেন, আপনিই ঠিক করুন, আমরা আপনাদের বিশদ তথ্য জানিয়ে দেব।’’