কলকাতা: আপাতত আধার কার্ডের সংশোধনের কাজ বন্ধ এরাজ্যে। নতুন করে আর কোনও আধার কার্ডের সংশোধন হবে না বলে কলকতা পুরসভার তরফেও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। গোটা রাজ্যেই আধার কার্ড সংশোধনের সব শিবিরই আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

ওয়াটগঞ্জ থানা এলাকায় আধার কার্ড সংশোধনের নামে এনপিআর–‌এর ফর্ম পূরণের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ওয়াটগঞ্জ থানার পুলিশ। এলাকায় যান কলকাতা পুরসভার মেয়র তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এনপিআর-এর কাজ কোনওভাবেই এরাজ্যে এখন হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন মেয়র। ফিরহাদ হাকিমের কথায় আশ্বস্ত হন এলাকাবাসী।

পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মেনেই এরাজ্যে এনপিআর-এর কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। আধার কার্ড সংশোধনের নাম নিয়ে এনপিআর-এর কাজ করা যাবে না। আধার কার্ড সংশোধনের নামে এনপিআর-এর কাজ করার অভিযোগ উঠতেই সেই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুরমন্ত্রী আরও জানান, স্বরাষ্ট্রসচিব বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দিয়েছেন এ রাজ্যে এনপিআর বন্ধ। কেউ এই কাজ যদি করেন তবে সেই কাজের কোনও সরকারি বৈধতা থাকবে না।

এদিকে, ওয়াটগঞ্জে গন্ডগোলে যুক্ত থাকার অভিযোগে প্রসেনজিৎ দাস ও হৃষীকেশ মান্না নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আলিপুর আদালতে ধৃতদের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন, এনআরসির পাশাপাশি এনপিআর নিয়েও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বুধবার কৃষ্ণনগরের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এনআরসির প্রথম ধাপ এনপিআর। এনপিআর আমি রাজ্যে করতে দিইনি।’ সরকারি কর্মীদেরই একাংশের বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাতের অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজ্য সরকারের সব কর্মচারী আমাদের নয়। কেউ কেউ সিপিএম, কংগ্রেস আছে।’ সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কেউ যদি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নাম করে আপনার বাড়ি গিয়ে বলে আমি রাজ্য সরকারের কর্মী, আপনার কাগজ দেখান, আমি বলছি দেখাবেন না।’