স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: বিতর্ককে দূরে সরিয়ে আধারের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের হয়রানি লাঘবের উদ্যোগ নিল খোদ বাংলার এক কলেজ। মার্কশিটে ছাত্র-ছাত্রীদের আধার নম্বর সংযোজন করা হয়েছে বালুরঘাট কলেজে। উচ্চশিক্ষা বা ভিনরাজ্যে চাকরির ক্ষেত্রে আবেদনপত্রের সঙ্গে দেওয়া মার্কশিটের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তা ভেরিফিকেশনের জন্য নির্দিষ্ট কলেজে পাঠানো হয়। বালুরঘাট কলেজের আধার সংযোজনের অভিনব এই উদ্যোগে এখন আর ভেরিফিকেশন রিপোর্টের অপেক্ষায় থাকতে হবে না। মার্কশিটে উল্লেখ থাকা আধার নম্বরের মাধ্যমেই আবেদনকারীরই তা কি না তা তৎক্ষণাৎ জানা সম্ভব হবে।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে এলপিজি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধারের সংযোজন নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক চলতে থাকে। যে বিতর্কের সমাধান সূত্রের সেই জল গড়ায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত অবধিও। খোদ এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আধার নম্বর সংযোজনের বিরোধিতায় একাধিকবার সরব হয়েছেন। এতো কিছুর মাঝে এই রাজ্যেরই তত্ত্বাবধানে থাকা গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ বালুরঘাট কলেজ কর্তৃপক্ষ উল্টে আধারকে অবলম্বন করে সর্বভারতীয় স্তরের চাকরি বা উচ্চ শিক্ষায় প্রবেশে ভেরিফিকেশন সংক্রান্ত হয়রানি লাঘবে সচেষ্ট হয়েছে।

এই কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর স্তরের পরীক্ষাগুলিতে পাশ করা ছাত্র-ছাত্রীদের মার্কশিটে আধার নম্বর সংযোজন করেছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, এর ফলে একদিকে যেমন শুধুমাত্র ভেরিফিকেশনের জন্য সেই ছাত্রকে আর আবেদনকারীকে কলেজে ছুটে আসতে হবে না। পাশাপাশি ভেরিফিকেশন বাবদ যে খরচ তাও করতে হবে না। শুধুমাত্র আধার নম্বরের মাধ্যমেই আবেদনকারীর নাম ঠিকানা সুনিশ্চিত করতে পারা যাবে। কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিনব এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন খোদ মহকুমাশাসক ও ছাত্র-ছাত্রীরাও।

বালুরঘাট কলেজের অধ্যক্ষ পঙ্কজ কুণ্ডু বলেছেন, ‘‘স্নাতকোত্তর পরীক্ষার মার্কশিটের সঙ্গে আধার নম্বর সংযোজন করা হচ্ছে। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষায় আবেদন করার সময় আবেদনকারীর নাম ঠিকানা ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজে নথিগুলি পাঠিয়ে তা আবেদনকারীরই কিনা তা যাচাই করা হয়। এই প্রক্রিয়াটা অনেক ক্ষেত্রেই সময় সাপেক্ষ হয়ে যায়। ফলে হয়রানির মুখে পড়তে হয় আবেদনকারীকে। একই অবস্থা হয় চাকরির ক্ষেত্রেও। সেই হয়রানি থেকে রেহাই দিতেই আধার সংযোজন।’’ এর ফলে আধার নম্বরের মাধ্যমেই আবেদনকারীর সম্পর্কে সুনিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে সদ্য মেয়াদ উত্তীর্ণ পরিচালন কমিটির প্রাক্তন সভাপতি অজয় সাহা বলেছেন, ‘‘সাধারণ প্রক্রিয়ায় মার্কশিট বা সার্টিফিকেট ভেরিফিকেশনে সময় ও অর্থ দুই-ই খরচ হয়। সেখানে আধারের নম্বরের মাধ্যমে তৎক্ষণাৎ ভেরিফিকেশনের ফলে সেই দুর্ভোগ আর ছেলে মেয়েদের পোহাতে হবে না।’’