স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: এটিএম কার্ড জালিয়াতির ঘটনায় সরাসরি কেন্দ্রকে ‘কাঠগড়ায়’ তুললে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম৷ মঙ্গলবার কেন্দ্রকে একহাত নিয়ে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বারবার এটাই বলেছেন। কেন্দ্রের ব্যাপার এটা। ব্যাঙ্কে টাকা রাখলে নিয়ে নেবে।” এই কথার সূত্র ধরেই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ফিরহাদ হাকিয়ে অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার ব্যাঙ্কে গচ্ছিত সাধারণ মানুষের টাকা লোপাট করে দিচ্ছে। বলেন, “ব্যাঙ্কের টাকা নিয়ে চিটিংবাজি চলতে পারে না। মুখ্যমন্ত্রী এইজন্য বলেছিলেন, আধার আর মোবাইল লিঙ্ক করব না। কেন্দ্র কাউকে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বাড়িতে টাকা রাখলে নোট বন্দি, আর ব্যাঙ্কে টাকা রাখলে চিটিংবাজরা নিয়ে নিচ্ছে।”

এটিএম জালিয়াতি নিয়ে হু হু করে অভিযোগ আসতে শুরু করে যাদবপুর থানায়। শনিবার রাত থেকে রবিবার পর্যন্ত দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর এলাকায় একের পর এক ব্যক্তি বুঝতে পারলেন, ডেবিট কার্ড হাতে থাকা সত্ত্বেও তাঁদের অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে টাকা। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ২৭ জন অভিযোগ দায়ের করেছেন পুলিশের কাছে।

লালবাজার সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করে দিয়েছে গোয়েন্দা বিভাগের ব্যাঙ্ক জালিয়াতি দমন শাখা। এটিএম কাণ্ডের তদন্তে একটি বিশেষ টিমও গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ। ব্যাঙ্ক ফ্রড ও সাইবার শাখার অফিসারদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে টিম। সাহায্য নেওয়া হচ্ছে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদেরও। তবে এখনও স্পষ্ট নয় ঠিক কোন পদ্ধতিতে এ বার এটিএম জালিয়াতি হচ্ছে। তবে প্রাথমিক ভাবে জালিয়াতির ধরন দেখে তদন্তকারীদের ধারণা, এই প্রতারণা স্কিমারদের কাজ। তদন্তকারীদের সন্দেহ সোমবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও অভিযোগ বা প্রতারণার খবর মিলবে। কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ শহরতলি) সুদীপ সরকারের জানিয়েছেন, রবিবার রাত পর্যন্ত তাঁরা ১৭টি অভিযোগ পেয়েছেন। সোমবার সকালে তা ২৫ ছাড়িয়েছে।

এদিন বিধানসভায় ব্যাঙ্ক জালিয়াতি নিয়ে প্রথম মুখ খোলেন বাম পরিষদীয় দলের নেতা সুজন চক্রবর্তী। উদ্বেগ প্রকাশ করেন, একের পর এক জালিয়াতির ঘটনায়। বলেন, “ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা আর থাকছে না। আমরা উদ্বিগ্ন।” এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় রাজ্য সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে? জানতে চান তিনি। সুজন চক্রবর্তীর প্রশ্নে জবাবেই এই মন্তব্য করেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।