কলকাতা : হায়দরাবাদ গণধর্ষণ কাণ্ড মনে পড়ে? পুলিশের সেই এনকাউন্টার? সেই ঘটনা নিয়েই এবার ছবি হতে চলেছে বাংলায়। ঘটনা হল এই একই বিষয় নিয়ে ছবি করছেন রামগোপাল বর্মা। ঘটনায় যথেষ্ট ক্ষুব্ধ ছিল নির্যাতিতার পরিবার। তাদের অভিযোগ ছিল পরিচালক তাঁদের কিছু না জানিয়েই ছবি করছেন। ট্রেলার বেরোবার পর সদস্যরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছিলেন রামগোপাল বর্মার বাড়ির সামনে। ওই ছবির নাম ‘দিশা এনকাউন্টার’। একই বিষয়ের উপর ছবি হচ্ছে বাংলাতেও।

ছবি প্রসঙ্গে পরিচালক অয়ন মুখার্জি বলেছেন, ‘এই ছবির জন্য ওই পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। ওনারা সমস্ত নাম, স্থান পরিবর্তন করে দিতে বলেছিলেন। সেটাই করেছি তাই সমস্যা হয়নি।’ অয়নের কথায়, ‘এর আগে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রকে নিয়ে আমি ছবি বানিয়েছি। ওই ছবির খুব ভালো রেসপন্স পেয়েছিলাম। তাই পরের ছবির জন্য প্রত্যাশার একটা চাপ তৈরি হয়েছিল। ঠিক সেই সময় হায়দরাবাদে ঘটে যাওয়া একটি নারকীয় ঘটনা নাড়া দিয়ে গেছিলো মনকে। একজন ডাক্তারকে গনধর্ষণ! প্রমান লোপাটের জন্যে তাকে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার নারকীয়তা হয় নির্ভয়া কাণ্ডের চেয়ে কম কিছু নয়। তাও নিউজ চ্যানেলগুলো শোনার পর সত্যি মনে হয়ে ছিল যে এর শেষ কবে? আদৌ কি সম্ভব! আমার নিজের দিদি বা খুব কাছের মানুষটা যখন রাস্তা দিয়ে যায় তারা কি আদৌ সুরক্ষিত? যারা এই ধরনের পাশবিক ঘটনা ঘটায় কেনই বা করে? তারপর এই ঘটনা নিয়ে রিসার্চ শুরু করি।’ অয়ন একই সঙ্গে জানিয়েছেন, ‘সংবাদ মাধ্যমে আসা ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ছাড়াও কিছু কেস সম্পর্কিত ডকুমেন্ট আমার হাতে আসে। শুধু এই কেস নয় এই ধরনের রিলেটেড বেশ কিছু কেসের নথি আমার হাতে আসে। খুব অবাক হই এর মধ্যে একটি পাঁচ বছরের ছোট্ট বাচ্চা মেয়েও ছিল! হাতে পাই এমন কিছু ঘটনা যা গায়ে কাঁটা দিয়ে দেয়। একবার এর জন্যে ভাবতে বাধ্য করে যে আমার বাড়ির ছোট বোনটা নিজের ঘরে সুরক্ষিত তো! নাকি সেও কোনও ভয়ঙ্কর ঘটনার শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ঠিক তার পরের মাসেই আর এক চমক লাগল। একদিন সকালে শুনলাম এই কেস এ জড়িত চার অভিযুক্তের পুলিশ একাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে। গোটা দেশ আনন্দে উৎসবে মেতেছে। ফিল্মি কায়দায় বরণ করা হচ্ছে গোটা টিমকে।’

পরিচালক বলছেন , ‘অনেকেই বলছে এটাই সঠিক পথ। অনেকে প্রশ্ন চিহ্ন রেখেছেন। এটাই কী সঠিক পথ? এভাবে কী সমস্যার সমাধান হবে? এই ঘটনার উপর এনালাইসিস এবং কিছুটা বিবেক বোধ দিয়ে এই সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছি ছয় এপিসোডের এই ওয়েব সিরিজে।নাম ‘অফিসার’স চয়েস’।’ সিরিজ মুক্তি পাবে ‘হালুম’এর ইউটিউব চ্যানেলে ৯ এপ্রিল।

এক ঝাঁক নাট্যশিল্পী কাজ করেছেন এই সিরিজে। কিছু নতুন মুখও আছে। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছে মন চক্রবর্তী, তরী আচার্যি, স্পন্দন ব্যানার্জি, রাজনন্দিনী দত্ত, সুমনেশ জালুই, সৌরভ কোলে, দেশবন্ধু, সাগর পাল এছাড়াও রয়েছে সৌনক সামন্ত, নীলয় দে, ইন্দ্রনীল দে। আবহ এবং সঙ্গীত পরিচালনায় করেছেন গোগোল। ডি.ও.পি আসিফ ইকবাল। সমগ্র প্রজেক্টএর পাশে থেকেছেন পুলিসের ডেপুটি কমিশনার দ্যুতিমান ভট্টাচার্য।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।