শুধু ভালোবাসার টানে ওরা শিখতে চান নতুন একটি ভাষা। ফু পেই লিন স্বপ্ন দেখেন কোনো এক সকালে একেবারে ঝরঝরে তামিলে কথা বলছেন। লিনের কথায়, ‘প্রথমবার যেদিন শুনেছিলাম সেদিনই যেন এক্কেবারে love at first sight’। আর সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই অ্যাডমিশন নিয়েছেন বেজিং ফরেন স্টাডিজ ইউনিভার্সিটিতে। সেখানকার তামিল বিভাগের ১০ জন ছাত্রছাত্রীর একজন লিন। যদিও নিজেই স্বীকার করছেন কাজটা মোটেও নয়,তবে যখন প্রতিটা শব্দ নিজের মুখে উচ্চারণ করেন উচ্ছ্বাস যেন ধরে না তার মুখে।এই দ্রাভিড় ভাষার প্রেমে পড়েছেন আরও ৯ ছাত্রছাত্রী।

এবছরই বেজিং ফরেন স্টাডিজ ইউনিভার্সিটিতে তামিল পড়ানো শুরু হবে। তামিলে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করতে লিনদের অপেক্ষা করতে হবে আরও চারটে বছর। তবে স্বপ্নপূরণ যে হবে তা নিয়ে আর কোনো সংশয় নেই। হিন্দি আর বাংলা পড়ানো শুরু হয়েছিল আগেই এবার সেই তালিকায় নবতম সংযোজন তামিল। ভারতীয় ভাষার প্রতি সেদেশের ঝোঁক যে বাড়ছে বলার অপেক্ষা রাখে না।

সেখানকার তামিল বিভাগের প্রধান ইসভারি আলিয়াস হউ জিন বলেন,’এসব দেখে ১৫ বছর আগে আমার তামিল শেখার প্রথম দিনটার কথা মনে পড়ে যায়। এখনও অনেক পথ বাকি।’তাই ছাত্রছাত্রীদের পড়ানোর সুযোগে আবার ঝালিয়ে নিতে চান নিজের পড়াশুনো। এমনকি ক্লাসের প্রথম দিনই বুঝেছেন ফাঁকি মারার সুযোগ নেই, ছাত্রছাত্রীরা কিন্তু খুব সিরিয়াস।

আর পড়তে পড়তেই ওরা ঘুরে আসবে তামিলনাডু, শুধু ভাষা শেখাই নয় সেখানে থেকে আপন করে নেবে মানুষগুলোকেও।

ইসভারি জানিয়েছেন,’পড়াশুনোর মধ্যেই তামিলনাডু গিয়ে তামিলে কথা বলা এবং লেখার দক্ষতায় শান দেবে ওরা’। তারা জানবে সেখানকার ইতিহাস,সমাজ,দর্শন তবেই শিক্ষা সম্পূর্ণ হবে।এবার থেকে প্রতি সপ্তাহে ১২ ঘণ্টা করে তামিল পড়বে ওরা।

ভিডিও কলিংয়ের মাধ্যমেও বেশ কয়েকজন তামিল স্কলার তাদের পড়াবেন। শুধু তামিল পড়াই নয় এক্কেবারে চাকরি নিয়ে ভারতে এসে থাকার প্ল্যানও রয়েছে কয়েকজনের।

গত এপ্রিল মাসেই বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে সাক্ষাতের সময় বলেছিলেন দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের দূরত্ব মুছতে ভাষার দূরত্ব কমাতে হবে। বর্তমানে চিনের ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০০ জন ছাত্রছাত্রী হিন্দি ভাষা রপ্তের চেষ্টায়। ভারতীয় ছবি ‘দঙ্গল’, ‘সিক্রেট সুপারস্টার’, ‘হিন্দি মিডিয়াম’ চিনের মাটিতে বেশ সাফল্য পেয়েছে। সকলেই চাইছেন আর যেন সাবটাইটেলের ওপর ভরসা করতে না হয়।