হাওড়া: সামনেই ছিল বাবার বাৎসরিক কাজ। তারই আয়োজনের জন্য আমতা বেড়িয়েছিলেন সোনামুই গ্রামের বছর আটত্রিশের যুবক সৌমেন মেউর। কিন্তু হঠাৎই একটা দুর্ঘটনা সবকিছু ওলটপালট করে দিল। দুর্ঘটনার আঘাত এতোটাই গুরুতর যে হাতটাই বাদ দিতে হত। এরকমই এক পরিস্থিতিতে বিশিষ্ট সার্জেন সুদীপ্ত মল্লিকের প্রচেষ্টায় ‘হাত’ ফিরে পেলেন আমতার ওই যুবক।
 জানা গিয়েছে, গত দু’দিন আগে সোনামুই থেকে আমতা যাচ্ছিলেন সৌমেন মেউর। কলাতলার কাছে লরির সাথে সৌমেনের সংঘর্ষ হয়। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে আমতা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে উলুবেড়িয়ায় স্থানান্তরিত করা হয়। ততক্ষণে পচন ধরতে শুরু করেছে ওই যুবকের ক্ষতবিক্ষত হাত৷ সাথে তীব্র যন্ত্রণা। এই অবস্থায় বিশিষ্ট সার্জেন সুদীপ্ত মল্লিকের শরণাপন্ন হন রোগীর পরিচিতরা। রোগীকে দ্রুত অপারেশন করতে হবে বলে জানান সুদীপ্ত বাবু। সেই মোতাবেক বাগনানের এক বেসরকারি হাসপাতালে রোগীকে ভর্তি করা হয়।
 দীর্ঘক্ষণ ধরে অপারেশন করে পচন ধরা থেকে সৌমেনের হাতকে বাঁচান বাগনানের নুন্টিয়ার বাসিন্দা সুদীপ্ত মল্লিক। চিকিৎসক সুদীপ্ত মল্লিক জানান,”দুর্ঘটনার জেরে যুবকের হাত ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পচন ধরতে শুরু করেছিল। এই অবস্থায় অপারেশন করি। আপাতত বিপদমুক্ত।” নিজের হাত ফিরে পেয়ে খুশি বছর সাঁইত্রিশের সৌমেন।
এই সুদীপ্ত মল্লিকের হাতেই ঠিক হয়েছিল এক বছর বারোর কিশোরের আঙুল। গত বছর ডিসেম্বর মাসে গাছ বোম নিয়ে খেলার সময়ে তা হাতে ফেটে গিয়েছিল ওই কিশোরের। তার জেরে ডান হাতের বুড়ো আঙুল হাত থেকে প্রায় আলাধা হয়ে ঝোলার উপক্রম। সাথে অনরগল রক্তপাত। রোমহষর্ক চিত্র দেখে আঁতকে উঠেছিল অনেকেই। ঘটনার দিন তিনেকের মধ্যেই সেই আঙুল গভীর ক্ষত সারিয়ে আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার পথে। সৌজন্যে বাগনানের ওই তরুণ চিকিৎসক।
 গাছ বোম নিয়ে খেলার সময়ে তা আচমকাই হাতে ফেটে যায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কিশোরের। সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে আসা হয়েছিল তমলুকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। রোগীর আঙুলের অবস্থা দেখে অনেকেই একপ্রকার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। কিন্তু হাল ছাড়েননি তরুণ চিকিৎসক। বাগনানের নুন্টিয়ার বাসিন্দা বিশিষ্ট সার্জেন সুদীপ্ত মল্লিক অপারেশন টেবিলে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে ডিজিটাল আর্টারি এনাস্টোমোসিসের মাধ্যমে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরালেন ওই কিশোরকে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.