সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হাওড়া: নির্বাচন বিধির মধ্যে পরিবেশ রয়েছে। কিন্তু সচেতনতার অভাবে নির্বাচনের আগে এবং পরে পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা সবথেকে বেশি থাকে। গাছের পেরেক দিয়ে রাজনৈতিক প্রচারের পোষ্টার ব্যানার সেঁটে কিংবা কোনও সভাস্থলে প্রচুর থার্মোকলের ব্যবহার ফলে পরিবেশের প্রচুর ক্ষতি হয়।

নির্বাচনের ফল ঘোষণা হওয়ার পরে চূড়ান্ত পর্যায় যায় শব্দবাজির ব্যবহার। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গ্রামীণ এলাকা। এইসব কিছুর বিরুদ্ধেই পথে নামছেন পরিবেশকর্মীর দল। হাওড়ার বিভিন্ন ব্লকে ব্লকে গিয়ে নির্বাচনের সময়ে পরিবেশ রক্ষার প্রচেষ্টার প্রচার শুরু করবেন তাঁরা।

বিশেষ এই উদ্যোগের ভাবনা ‘মাধবপুর পরিবেশ চেতনা সমিতি’ নামের পরিবেশ সচেতন সংস্থার। মূলত হাওড়ার মধ্যেই তাঁদের কার্যক্রম বেশি তবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে রাজ্যের সমস্ত মানুষের কাছেই পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দেওয়ার প্রচেষ্টা করে সংগঠনটি।

সংস্থার পক্ষে জয়িতা কুণ্ডু কুন্তী জানিয়েছেন, “নির্বাচন আসন্ন। নির্বাচনের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী পর্যায়ে পরিবেশ যাতে সুস্থ থাকে,গাছগুলো যাতে সুরক্ষিত থাকে,গাছের গায়ে পেরেক সেঁটে নির্বাচনী প্রচার চালানো না হয়,থার্মোকল ও প্লাস্টিকের ব্যবহার না হয় এবং নির্দিষ্ট শব্দবিধি লঙ্ঘিত না হয় এবং নির্বাচন পরবর্তী পর্যায়ে প্রচার সামগ্রী সরিয়ে নিয়ে দৃশ্য দূষণ রোধ করা যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা এ নিয়ে প্রত্যেক দিন লড়ছি। আমাদের রাজ্যে বিশেষ কোনও অনুষ্ঠান সে রাজনৈতিক হোক বা ধর্মীয় প্রত্যেকক্ষেত্রেই সর্বপ্রথম টার্গেট হয় পরিবেশ। সেটা বাঁচানোর আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করি। নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এর অন্যথা হবে না।”

সংস্থার পক্ষে জানানো হয়েছে ,৩০ এবং ৩১ মার্চ হাওড়া জেলার গ্রামীণ থানা এলাকাগুলোতে একটি প্রচার অভিযান চালাবেন তাঁরা। স্থানীয় থানাগুলিতে একটি করে আবেদন পত্র জমা দেওয়া হবে। পরিবেশ বাঁচাতে এই কাজে মাধবপুর পরিবেশ চেতনা সমিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পরিষদ (উলুবেড়িয়া শাখা)। এই দুই সংস্থা যৌথ উদ্যোগে পরিবেশ সচেতনতা বার্তা বিলি করবেন তারা। প্রথম দিনেই বিতরণ করা হবে দশ হাজার ১০ হাজার লিফলেট।

প্রতিটি অরাজনৈতিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে নিজেদের স্থানীয় থানাতে নির্দিষ্ট সময়ে হাজির হয়ে এই উদ্যোগে সামিল হওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। গাছের গায়ে পেরেক সেঁটে নির্বাচনী প্রচার না করার জন্য সই সংগ্রহ করা হবে এবং পরিবেশ বাঁচানোর এই উদ্যোগ প্রত্যেক রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা করবেন তারা।

জয়িতা কুণ্ডু বলেন , “প্রচারের সময় যদি কোথাও কোনওরকম পরিবেশ অসেচতনতার প্রমাণ পাই তাহলে তা আমরা জনসমক্ষে তুলে ধরব কারণ আমরা দেখেছি আমাদের প্রত্যেকটি পরিবেশ বাঁচানোর প্রচেষ্টায় ভালো ফল মিলেছে। এবার সেই আশা রাখছি।”

প্রচারের প্রথমদিন অর্থাৎ ৩০ মার্চ শনিবার সকাল ৯ টায় উলুবেড়িয়া কোর্টের কাছ থেকে শুরু হবে এই যাত্রা। উলুবেড়িয়া থানা হয়ে পরিবেশ প্রেমীরা শ্যামপুর থানা , বাগনান থানা ,রাজাপুর থানা ,বাউড়িয়া থানা ,পাঁচলা থানা ,সাঁকরাইল থানায় এই প্রচারের বার্তা নিয়ে যাবেন। দ্বিতীয় দিন ৩১ মার্চ রবিবার সকাল ১০টায় যাত্রা শুরু হবে আমতা থানার মাধ্যমে । তারপর জয়পুর থানা , জগৎবল্লভপুর থানা ,উদয়নারায়ণপুর থানা ও ডোমজুড় থানা এলাকাগুলিতে এই প্রচার এবং সই সংগ্রহের কাজ করা হবে।