সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ওঁরা কেউ স্লোগান দিলেন ‘এনি টাইম লক ডাউন, এনি টাইম আন লক। দিদি মোদী ডুইং সিওর টিকটক টিকটক’। আবার কেউ বললেন , ‘হাম তুম এক করোনা মে বনধ হো, অউর চাবি খো যায়ে’। এভাবেই নতুন করে একদিকে দেশ জুড়ে শুরু হওয়া আনলক ২.০ ও রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ফের শুরু হওয়া লকডাউনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালেন আইএনটিইউসি সেবাদল। আসলে এই লকডাউন, আনলক বিষয়টিকে তাঁরা বলতে চাইছেন পরিকল্পনাবিহীন। বলতে চাইছেন কেন্দ্র রাজ্য যখন যেভাবে পারছে, যা ইচ্ছে তাই করছে এই ভয়ঙ্কর সময়ে। এর বিরুদ্ধেই তাঁরা পথে নেমে এক অভিনব প্রতীকী প্রতিবাদ জানালেন।

কন্টেইনমেন্ট জোন ও বাফার জোনে নতুন করে আরও কঠোর লকডাউন এর সিদ্ধান্তকে ব্যঙ্গ করে আইএনটিইউসি সেবা দলের পক্ষ থেকে অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হল। কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘সিচুয়েশন আনকন্ট্রোল, বলো হরি বোল’। এদিনের কর্মসূচী থেকে আন্দোলনকারীরা শ্লোগান তোলে,এনি টাইম লক ডাউন এনি টাইম আন লক, দিদি মোদী ডু ইং সিওর,টিক টক টিক টক। এদিন তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, লক-ই যদি করবে আবার খুললে কেন? করোনাকে এখন ভোটের ইস্যু করে সাজানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তারা। আইএনটি ইউ সি সেবাদলের পক্ষ থেকে খোল করতাল গান স্লোগান সহযোগে চাবিতালা প্রতীকী নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ সংগঠিত হয়।

বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন আপাতত লকডাউন চলবে সাতদিন। তারপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত। ওইদিন নবান্নে স্বাস্থ্য বিষয়ক বৈঠকের পর সংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আপাতত সাতদিন এলাকাগুলির উপর কড়া নজর রাখা হবে। সাতদিন পর পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ শুধু তাই নয়, তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আগে কনটেইনমেন্ট জোনগুলিকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। A রেড জোন, B বাফার জোন ও C আইসোলেশন জোন। তবে, এবার সেই নিয়ম পালটে যাচ্ছে। এখন থেকে A ও B জোন থেকে কিছু এলাকা নিয়ে ছোট ছোট কনটেইনমেন্ট জোন করা হচ্ছে। রেড জোন ও বাফার জোন মিলিয়ে কনটেইনমেন্ট জোন।’ শুধু তাই নয়, হুঁশিয়ারির সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই সাতদিন কনটেইনমেন্ট জোনের কোনও বাসিন্দা খুব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোবেন না। সেইসঙ্গে মাস্ক ছাড়া কেউই বাড়ির বাইরে বেরোলে তাঁকে পুলিশ ধরবে। সেই সঙ্গে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বাড়িতে।

এদিকে দেশে চলছে আনলক টু। পয়লা জুলাই থেকে কনটেনমেন্ট জোন বা গণ্ডিবদ্ধ সংক্রমিত এলাকায় ৩১ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন থাকবে। সেখানে ছাড় থাকবে শুধু জরুরি পরিষেবায়। কোন এলাকা বা তার কতটা কনটেনমেন্ট জ়োনে থাকবে, তা স্থির করার অধিকার থাকবে রাজ্যগুলির হাতে। একদিকে কঠোর লকডাউন, আরেকদিকে আনলক। মানুষ দ্বিধায় পরছেন এই দু’য়ের মাঝে। এটা বোঝাতেই পথে নামেন তাঁরা।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।