মেলবোর্ন: আকাশে আজ মেঘের খেলা৷ গানটা গুনগুন করতেই পারেন, কিন্তু এই মেঘ দেখলে গান নয়, মাথায় ভিড় করে আসবে একাধিক প্রশ্ন৷ সবচেয়ে আগে যে প্রশ্নটা আসবে, তা হল আকাশটা ভেঙে মাথায় পড়বে না তো? কারণ এই ধরণের মেঘ যদি আপনার মাথার ওপরের আকাশে ঘনীভূত হয়, তাহলে আপনার চোখে পড়বে একাধিক ঢেউ এর সমষ্টি৷

হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন৷ অ্যাসপিরেটাস মেঘ জমাটবদ্ধ হলে, ঠিক এরকমই দেখতে লাগে গোটা আকাশটাকে৷ মনে হয় একাধিক ঢেউ যেন খেলে বেড়াচ্ছে আকাশ জুড়ে৷ তখন মনে হয় অনেকটা কাছে নেমে এসেছে আকাশ, হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে তাকে৷

তবে ভারতে নয়, এই আকাশের ছবি দেখা গিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ণের কাছে মার্টলফোর্ডে৷ ১১ই জুন৷ বিকেলের দিকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে ছিলেন পল ম্যাকুলি৷ আচমকাই আকাশের দিকে নজর পড়ে তাঁর৷ হকচকয়ি যান৷ তাঁর ভাষায় আকাশটাকে বড় একটা পুকুর বা সমুদ্রের একটা অংশের মত লাগছিল৷ যেখানে তৈরি হচ্ছে একাধিক ছেউ৷ তারা আছড়ে পড়ছে একে অন্যের ঘাড়ে৷ কিন্তু খুব দ্রুত স্থান পরিবর্তন করছে তাঁরা৷

এই মেঘসমষ্টির ছবিও তোলেন ম্যাকুলি৷ তাঁর কথায় এ এক অনন্য নজির, যা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হবে না৷ পরিবেশবিজ্ঞানীদের কথায় এই মেঘের নাম অ্যাসপেরিটাস ক্লাউড৷ আন্তর্জাতিক ক্লাউড অ্যাটলাস জানিয়েছে ল্যাটিন শব্দ থেকে এই মেঘের নামকরণ হয়েছে৷ এর মূল শব্দ undulatus asperatus cloud৷

মূলত ঢেউয়ের আকারে এই মেঘের গঠন৷ খুব দ্রুত স্থান পরিবর্তন করা এর মূল বৈশিষ্ট্য৷ এই ধরণের মেঘ গত দশকে খুব বেশি দেখা না গেলেও, ২০১৭ সালের আগে এই ধরণের মেঘকে মেঘসমষ্টি হিসেবে ধরাই হত না৷ তবে পরিস্থিতি বদলেছে৷

এই ধরণের মেঘ সমষ্টি এখন দেখা যায় প্রায়ই৷ ফলে বিজ্ঞানীরা নতুন ভাবে একে নিয়ে ভাবনা চিন্তা করেছেন৷ ক্লাউড অ্যাপ্রিসিয়েশন সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা বিজ্ঞানী গ্যাভিন প্রেটোর-পিনি প্রথম এই মেঘ নিয়ে লেখা শুরু করেন৷ নাম দেন অ্যাসপেরিটাস ক্লাউড৷ এই ধরণের মেঘ নিয়ে সচেতনতা ক্যাম্পেনও শুরু করেন তিনি৷