স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: ভারতের এক অন্যতম স্থান বারাণসী৷ আর সেখানে থাকা বিধবাদের মধ্যে বেশির ভাগই হচ্ছেন বাংলার৷ নানা কারণে বাংলার নিজ ভূমি ছেড়ে তাঁরা একটু সুখ ও স্বস্তির আশায় গিয়ে ভিড় জমান বারাণসীতে৷ তবে এই ভিড়ের নেপথ্যে যে কারণ উঠে এসেছে তাতে বাংলায় বিধবা অত্যাচারিতই প্রদান কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে৷

সম্প্রতি বারাণসীতে বিধবাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে একটি সমীক্ষা করা হয়৷ সেই সমীক্ষায় উঠে এসেছে, বারাণসীতে বিধবাদের মধ্যে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বাংলা থেকে যাওয়া, অর্থাৎ বাঙালি৷ জানা গিয়েছে, এই ব্যাপারে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে৷

মনে করা হয়েছে, বাংলার বুকে বিধবারা অবহেলিত, লাঞ্ছিত কিংবা অত্যাচারিত হওয়ার কারণেই তাঁরা বারাণসীতে চলে যাচ্ছেন। আর তাই রাজ্যের বিধবাদের হালহকিকত জানতে উদ্যোগ নিল রাজ্য নারী ও শিশু উন্নয়ন ও সমাজ কল্যাণ দফতর। গোটা রাজ্যে বিধবাদের সংখ্যা জানতে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর টানা ১৫ দিন ধরে গোটা রাজ্য জুড়েই ব্যাপক অভিযানে নামতে চলেছে রাজ্য মহিলা ও শিশু উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ দফতর।

সম্প্রতি রাজ্য এই সমাজকল্যাণ দফতর থেকে এই দফতরের সচিব সংঘমিত্রা ঘোষ সমস্ত জেলায় জেলায় এই ব্যাপারে নির্দেশিকাও পাঠিয়েছেন। জেলায় জেলায় এই ব্যাপারে একটি করে শক্তিশালী ‘বিধবা সেল’ বা ‘উইডো সেল’ গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৈরি করা হচ্ছে একটি রাজ্যস্তরীয় সেলও। জেলা ও রাজ্য স্তরের সেলগুলিতে কারা কারা থাকবেন তারও একটি গাইড লাইন দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি এই দফতরের সচিব সংঘমিত্রা ঘোষ জেলাগুলিতে যে নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন, তাতে আগামী ১ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলা জুড়ে চলবে একটি সমীক্ষা৷ কোথায় কতজন বিধবা রয়েছেন, তাঁরা কিভাবে রয়েছেন, তাঁদের আর্থিক অবস্থা, আয়, স্বাস্থ্য সহ তাঁরা ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স তথা পারিবারিক হিংসার শিকার কিনা প্রভৃতি যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই ধরণের ঘটনায় তাঁরা কোনও রকম সহায়তা পেয়েছেন কিনা তাও লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, আগামী ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে এক পক্ষকাল ব্যাপী এই সমীক্ষা করা হবে। সেক্ষেত্রে এই কাজে নিয়োজিত করা হতে পারে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের। এলাকাভিত্তিক এই তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি বিভিন্ন দফতর থেকেও বিধবা বিশেষত, পেনশন প্রাপক বিধবাদের তালিকাও সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি জানা গিয়েছে, সামগ্রিক ভাবে গোটা জেলার একটি বিধবাদের তালিকা তথা ডাটা বেস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরপর তাঁদের প্রয়োজন মত অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সেক্ষেত্রে আইনি সাহায্যের জন্য প্যানেলভুক্ত আইনজীবী, জেলাস্তরের আইনি পরিষেবা কেন্দ্রের স্বেচ্ছা-সেবকরা তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা করবেন।

মূলত, এই উদ্যোগের লক্ষ্য যাতে বিধবারা কোনও কারণেই নিজের ভিটে ছেড়ে অন্যত্র চলে না যান। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন বোধে তাঁদের ‘স্বধার’ হোমেও রাখার ব্যবস্থা করা হবে। এই ‘উইডো সেলে’ বিধবারা তাঁদের সমস্যা জানানোর পর তা লিপিবদ্ধ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে সেল। মাস প্রতি জেলার রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে রাজ্য স্তরে। সংশ্লিষ্ট বিধবাদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট প্রভৃতি না থাকলে এই সেলগুলিরও ব্যবস্থা করবে।

এমনকি তাদের আয়ের ব্যবস্থা করতে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গেও তাদের যুক্ত করার উদ্যোগ নেবে এই সেল। তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয় দেখার জন্য জেলাস্তরের মুখ্য স্বাস্থ‌্যাধিকারিককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এরই পাশাপাশি অনেক সময়ই বিধবারা পুনরায় বিয়ে করেন। সেক্ষেত্রে এই ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পরই ‘উইডো সেল’ থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশিকা তথা গাইড লাইন অনুসারে এই বিধবাদের জন্য হেল্থ চেকআপ, হেল্থ কার্ড তৈরি করা, তাঁদের বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। বিধবাদের হোমের ক্ষেত্রে তাঁদের অ্যাম্বুলেন্সের সুবিধা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এরই পাশাপাশি বিধবার সন্তানদেরও প্রয়োজনীয় সাহায্য করার নির্দেশ রয়েছে। রয়েছে এই ব্যাপারে সচেতনতা গড়ার জন্য নিয়মিত কর্মসূচি গ্রহণ করার নির্দেশও।