স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: একাদশ শ্রেণীর ছাত্রের মারে চোখ হারাল পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্র। পাঁশকুড়ার মেচোগ্রামের বসন্ত আবাস শিক্ষা সদন নামের একটি বেসরকারি বোর্ডিং স্কুলে ঘটনাটি ঘটেছে৷ জখম ছাত্রের পরিবারের তরফে পাঁশকুড়া থানায় স্কুল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি অভিযুক্ত ছাত্রের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷

ছাত্রের পরিবারের দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে এমন ঘটনা ঘটেছে৷ জখম ছাত্র জয়দীপ নস্কর উত্তর চব্বিশ পরগণার দমদম থানার মাঠকল এলাকার বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, জয়দীপের বাড়িতে স্কুল কর্তৃপক্ষ ফোন করে জানিয়ে ছিল খেলার সময় পড়ে গিয়ে তার চোখে আঘাত লেগেছে। প্রথমে পাঁশকুড়া ও পরে তমলুক হাসপাতালে ভরতি করা হয় জয়দীপকে।

পরে বাড়ির লোক তাকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভরতি করায়। সেখানকার চিকিৎসকরাই জানান জয়দীপের ডান চোখ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ছাত্রটি বাড়ির লোকেদের জানায় হোস্টেলে থাকা একাদশ শ্রেণির এক ছাত্র তার চোখে লাঠি ছুঁড়ে মেরেছিল৷ সে খেলতে খেলতে পড়ে গিয়ে এমনটা হয়নি৷ স্কুল কর্তৃপক্ষ অবশ্য বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।

এরপরই পাঁশকুড়া থানায় জয়দীপের মা সীমা নস্কর অভিযোগ জানান অভিযুক্ত একাদশ শ্রেণির ছাত্র ও স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তমলুকের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সব্যসাচী সেনগুপ্ত। সীমা দেবীর অভিযোগ, ওই একাদশ শ্রেণির ছাত্র আগেও বহুবার অত্যাচার করেছে জয়দীপের উপর। চলতি মাসে অভিভাবক মিটিংয়ে সমস্যাটি জানানোর কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু তার আগে এভাবে ছেলেকে মেরে চোখ নষ্ট করে দেবে ভাবতে পারিনি। আমরা অভিযুক্ত ছাত্রের পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষের কঠোর শাস্তি চাই।

যদিও সীমা দেবীর অভিযোগ স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে অস্বীকার করা হয়েছে। স্কুলের শিক্ষক তথা হোস্টেল ইনচার্য তুফান দাস বলেন, যে ছেলেটি মেরেছে তার বাড়িও নিউ টাউন এলাকায়। হাতে মারতে গিয়ে কোনভাবে ওই ছাত্রের চোখে লেগে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা পরিবারকে সমস্ত কিছু জানিয়েছিলাম। কেন এমন অভিযোগ করা হচ্ছে বুঝতে পারছিনা।