সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়: গত কয়েকদিন ধরে রীতিমতো নানা মহলের আলোচনায় উঠে আসছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। যেহেতু ইতিমধ্যে খবর রটেছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫ তম জন্ম দিবস উপলক্ষে কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুধু তাই নয় তাঁর এই কলকাতা সফরে আসা ঘিরে নেতাজি সম্পর্কে কিছু ঘোষণা হতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের নাম পরিবর্তন করে তা নেতাজি সুভাষচন্দ্রের নামে করার কথা ঘোষণা হতে পারে ওইদিন । সেই প্রেক্ষিতে একবার পিছন ফিরে দেখে নেওয়া যাক ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে নির্মাণের নেপথ্য কাহিনি। সৌধটির নির্মাণের ক্ষেত্রে এক বাঙালির বিশেষ ভূমিকা ছিল, তিনি হলেন স্যার রাজেন্দ্র নাথ মুখোপাধ্যায়।

কলকাতায় অবস্থিত‌ শ্বেত পাথরের তৈরি ইংল্যান্ডের মহারানী ভিক্টোরিয়ার নামাঙ্কিত এই স্মৃতিসৌধটি বর্তমানে জাতীয় প্রদর্শনশালা জাদুঘর । কলকাতার ঘুরতে আসা মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য স্থান হল এই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল।

কলকাতায় এই স্মৃতি সৌধ ভবনের উত্তর এবং দক্ষিণ দিকে রয়েছে বিশাল ফটক। উত্তর ফটক থেকে মূল ভবন পর্যন্ত চওড়া রাস্তার দুই ধারে প্রকাণ্ড জলাধার। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল চত্বরে রয়েছে সুরম্য উদ্যান। বিখ্যাত স্থপতি উইলিয়াম এমার্সন‌কে প্রথমে ইতালিও রেনেসাঁর স্থাপত্য শৈলীতে নকশা করতে বলা হয়েছিল।

কিন্তু তিনি শুধুমাত্র ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর বিরোধিতা করেন এবং ইন্দো সারাসেনিক শৈলী সঙ্গে মুঘল উপাদান যুক্ত করে এর মূল সৌধের নকশা করেছিলেন। আর ভিক্টোরিয়ার মাথায় রয়েছে ঘূর্ণায়মান পরি। বায়ুপ্রবাহ শক্তিশালী হলে বল বিয়ারিং যুক্ত একটি পাদ পিঠের উপর থাকা মূর্তিটি হাওয়া মোরগের কাজ করে। যখন এটা নির্মাণ করা হয়েছিল তখন কলকাতায় প্রচুর হাওয়া খেলত। আর সেই হাওয়ায় রীতিমতো ঘুরতে দেখা যেত ঐ পরীকে।

১৯০৪ সালে লর্ড কার্জন স্থির করেন রানী ভিক্টোরিয়ার সুদীর্ঘ রাজত্বকালে ভারত ইংল্যান্ড এর মধ্যে একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল । তারই নিদর্শন স্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া স্মৃতি রক্ষার্থে একটি সুন্দর সৌধ নির্মাণ করার। এই জন্য সেই সময় বিখ্যাত স্থপতি স্যার উইলিয়াম এমার্সন‌কে দায়িত্ব দেন।

এরপর দেশি-বিদেশি অনেক সংস্থা কাজের জন্য দরপত্র জমা দিলেও এমার্সন‌ রাজেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের মার্টিন এন্ড কোম্পানিকে প্রাসাদোপম অট্টালিকা বানানোর ভিত করার বরাত দেন। তাছাড়া প্লিনথ অর্থাৎ মাটি থেকে মেঝে পর্যন্ত দেয়াল তৈরির অনুমতি মার্টিন অ্যান্ড কোম্পানিকে দেওয়া হয়। তবে কলকাতার নরম পলিমাটিতে মার্বেল পাথরের প্রাসাদের ভার বহন করা নিয়ে একটা সংশয় ছিল সাহেবদের মধ্যে।

এদিকে ১৯১১ সালে রাজা পঞ্চম জর্জের ভারত সফর আসার পর নির্মীয়মান ভিক্টোরিয়া প্রাঙ্গণে একটি সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। সেই উপলক্ষে জায়গাটাকে সমান করা হয়েছিল এবং বহু মানুষের সমাগম হয়।‌ কিন্তু ওই সভার কয়েক মাসের মধ্যে লক্ষ্য করা যায় নির্মীয়মান সৌধের অনেকটা অংশ মাটিতে ঢুকে গিয়েছে এবং ভিতে অসংখ্য ফাটল ধরেছে। মাথায় হাত পড়ে স্থপতিদের কারণ সৌধের প্লিনথ তৈরির আগেই যদি এই দশা হয় তাহলে সুবিশাল সৌধের ভার বহন করবে কীভাবে এই নরম মাটি।

তখন আপাতত কাজ বন্ধ রেখে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। বেশ কিছুদিন ধরে পর্যালোচনা করার পরেও কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গেল না। এদিকে এই কমিটির রিপোর্ট পেশ হওয়ার পর রাজেন্দ্রনাথ বিলেতে ভ্রমণকারী স্যার উইলিয়াম এমারসন এবং সঙ্গী বিখ্যাত স্থপতিদের সঙ্গে আলোচনায় বসার সুযোগ পান। তখন তিনি অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করার কথা তোলেন।

কড়িকাঠের সাহায্যে বুনিয়াদি দেওয়াল শক্তিশালী করে তার উপর ইমারত বানানোর কথা বলেন। সেই ভাবনাকে ভিত্তি করে একটা সম্পূর্ণ নকশার সাহায্যে ওই জটিল কাজ কিভাবে করা যায় তা তিনি তুলে ধরেন। এরপর এমার্সন সাহেব কয়েকজন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার পর রাজেন্দ্রনাথের প্রস্তাবটি গ্রাহ্য বলে মনে করেন।

তাছাড়া এমার্সন সাহেব প্রযুক্তিগত কঠিন এই সংকটের সমাধান করে দেওয়ায়, রাজেন মুখোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানাতে তাঁর সংস্থা মাটিন কোম্পানিকেই পুরো সৌধ বানানোর দায়িত্ব দেন ‌।এই সৌধ তৈরীর পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল ১৯০৪ সালে তা সম্পূর্ণ হতে কেটে যায় বেশ কয়েকটা বছর । কাজ শেষ হয় ১৯২১ সালে। এরপর ১৯২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রিন্স অব ওয়েলস ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের দ্বার উদ্ঘাটন করেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।