ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত ছবি৷

নয়াদিল্লি: কাউন্ট ডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে ৷ বৃহস্পতিবার ফল বেরিয়ে যাবে সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের৷ তারপরে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন বেশ কিছু অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে সেই নতুন সরকারকে৷ বুথ ফেরত সমীক্ষা ইঙ্গিত দিয়েছে নরেন্দ্র মোদীই ফের ক্ষমতায় আসছেন৷ তবে শুধু ইঙ্গিত নয় কে আসলে ক্ষমতায় আসছে তা পুরোপুরি পরিস্কার হয়ে যাবে বৃহস্পতিবার নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর৷

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেইসব অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলি

প্রথমত, বাজেট ঘটাতি ৷ ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য মোদী অথবা ক্ষমতা পাওয়ার আসায় কংগ্রেস গরিব চাষিদের আর্থিক সহায়তার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাতে কোটি কোটি টাকা খরচ হবে ৷ অন্যদিকে কর আদায় লক্ষ্যমাত্রায় পৌছতে না পারলে ঘাটতি প্রতিকূলে যাবে৷ অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন সংস্থাগুলি নজর রাখছে এবং যদি তারা কোনও ভাবে তাদের মূল্যায়নের মাপকাঠিতে রেটিং কমায় তাহলে প্রভাব পড়বে ঋণেরর ক্ষেত্রে৷

দ্বিতীয়ত কর্মসংস্থান৷ নতুন সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হল কর্মসংস্থান ৷ ফলে তেমন উৎপাদনশীলতার পথ খুঁজতে হবে যাবে প্রতি মাসে প্রায় দশ লক্ষ চাকরি হয়৷ সরকারি ভাবে গত দুবছর ধরে ভারতে চাকরি সংক্রান্ত তথ্য বের করেনি ,যদিও সেই তথ্য ফাঁস হয়ে যায় এবং তা সরকার চেপে যেতে চায় ৷ যাতে বলা হয়েছিল গত ৪৫ বছরে সর্বোচ্চ বেকার যা ৬.১শতাংশে পৌঁছয়৷ সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি হিসাব অনুসারে তা এপ্রিল মাসে বেড়ে হয়েছে ৭.৬শতাংশ৷

তৃতীয়ত ঋণখেলাপির সসংস্যা ৷ আর্থিক সংস্থার ঋণখেলাপি বিশেষত আইএলঅ্যান্ড এফএস যেভাবে ঋণ মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে তার প্রভাব পড়েছে এদেশের আর্থিক বাজারে৷ এই সব অব্যাংকিং আর্থিক সংস্থার নেওয়া ঋণ কতটা মেটাচ্ছে হচ্ছে তা নজর রাখতে হবে কারণ তার প্রভার মিউচুয়াল ফান্ড এবং ঋনের বাজারে পড়ছে৷

চতুর্থত বাণিজ্য ঘাটতি ৷ ২০০২ সালে মার্চে শেষ এদেশের বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত ছিল ৷ তারপর দ্রুত অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের অর্থ হল দেশের রফতানির তুলনায় আমদানি বেড়ে গিয়েছে ৷ এর মধ্যে তেল কিনতেই অনেক অর্থ বেরিয়ে যায় ৷ যার ফলে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট-এ ঘাটতি জিডিপি-র ২ শতাংশের বেশি হয়ে গিয়েছে৷ যদিও ভারত চাইছে রফতানি বাড়িয়ে এই ঘাটতি কমাতে ৷

পঞ্চমত, লগ্নির পরিবেশ৷ গত চার বছর ধরে লগ্নি জিডিপি-র ৩০ শতাংশে আটকে রয়েছে ৷ সম্প্রতি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ কমে গিয়েছে – তার আংশিক কারণ এই নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা, তাছাড়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু ক্ষেত্রে সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং কিছু আমলাতন্ত্রের ফাঁস ৷ স্থায়ী সরকার এবং সংস্কারের পথে হাঁটলে লগ্নি বাড়ার সম্ভাবনা ৷