কক্সবাজার: সীমান্তের ওপারে ফেলে আসা দেশ৷ কবে ফেরা হবে তা কেউ জানে না৷ এপারে নজরবন্দি দশা৷ রোহিঙ্গা জীবন তাতেই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে৷ কিন্তু এর মধ্যেও থাকে অদ্ভুত কিছু, যেখানে দেশহীন রোহিঙ্গা জীবনের দুঃখ কিছুটা হলেও ছিটকে যাচ্ছে ঘুসির জোরে৷ লড়াই করেই, আত্মসম্মান বজায় রাখতে মরিয়া বাবা ও কন্যা৷

বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তু মানুষ রয়েছেন৷ এরা এসেছেন প্রতিবেশী মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে৷ সেদেশের সেনা ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষের পর থেকেই দেশছাড়া হয়েছিলেন মহম্মদ সেলিম ও তার মেয়ে নাসিমা৷ তখন রাখাইনে চলছিল গণহত্যা৷ বহুজনের সঙ্গে তারা চলে আসে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে৷ পরে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে মিলেছে ঠাঁই৷

দেশ অর্থাৎ মায়ানমারে থাকতেই মহম্মদ সেলিম তায়কোন্ডো অভ্যাস করতেন৷ ছিপছিপে চেহারার সেলিমের দৈহিক ক্ষিপ্রতা দেখার মতো৷ তিনি নিজেকে ফিট রাখতে চান৷ আর চান সুস্থ থাকতে৷ আত্মরক্ষার কলাকৌশলে রপ্ত করেছেন কোরিয়ান মার্শাল আর্ট তায়কোন্ডো৷ সেই শিক্ষা এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন৷ সঙ্গে নিয়েছেন কন্যা নাসিমাকে৷

কক্সবাজারের ছোট্ট মাটির ঘরে বাবা সেলিম রোজই ঘণ্টা খানেক ট্রেনিং দেন মেয়ে নাসিমাকে৷ সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মহম্মদ সেলিম জানিয়েছেন, আমি দেখেছি এই খেলার কত সম্মান রয়েছে৷ সুস্থ থাকতে, নিজেকে রক্ষা করতে, সবাইকে রক্ষা করতে পারা যায়৷ বাবার সঙ্গে ঘাম ঝরানো ট্রেনিং করেন নাসিমা৷ সেও জানিয়েছে-লড়াই করার কথা৷

মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশের পরিস্থিতি এখনও ঠিক নয়৷ সে দেশের সরকার বাংলাদেশে চলে যাওয়া শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে বিস্তর টালবাহানা করছে৷ এদিকে বাংলাদেশ সরকারও তাদের ফিরিয়ে দিতে প্রবল আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করেছে৷ আর দেশহীন হয়ে শিবিরে শিবিরে অসহায় পরিস্থিতি লাখো মানুষেরে৷ দ্রুত বাড়ছে এডস রোগীর সংখ্যা৷ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ৷ এসবের মধ্যেও বাবা ও মেয়ের লড়াই অন্যরকম৷

তারা চান সুস্থ থেকে জীবনের লড়াইয়ে সামিল হতে৷ খালি হাতে আত্মরক্ষার শিক্ষাই তাদের জীবন যন্ত্রণা দূর করে দেয় ৷