চট্টগ্রাম:  তিনদিন ধরে খাইয়ে সেবা যত্ন্ করা হয়েছে৷ সেবায় বাবাজি ভীষণ খুশি৷ বিশাল চেহারা নিয়ে অতিথি বাড়িতে থাকার সময় ফুরিয়ে গেল৷ অগত্যা বাড়ি মানে গভীর জঙ্গলে ফিরে যেতে হল৷ তাকে টা টা জানিয়ে ফিরে এলেন পড়ুয়ারা৷ ঘটনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের৷ বিবিসি জানাচ্ছে, একটি অজগরকে উদ্ধার করে তাকে যত্ন-পরিচর্যার পর বনে পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷

বিবিসি রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাহাড়ে আগুন লাগার কারণে বা প্রচণ্ড গরমে হয়ত অজগরটি চলে এসেছিল বাইরে। এরপর ধরা পড়ে স্থানীয় কিছু মানুষের হাতে। খবর পেয়ে সেটি উদ্ধার করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ আহসান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নিরাপত্তারক্ষীরা৷ এরপর তিন দিন ধরে চলে যত্নের পালা৷ ওই অধ্যাপকের সঙ্গে যোগ দেন পড়ুয়ারা৷

বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের ডিন মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, স্থানীয় কিছু মানুষ অজগরটিকে ধরেছিল ক্যাম্পাস সংলগ্ন একটি এলাকা থেকে। হয়তো বিক্রির জন্য বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল। তখন আমাদের কাছে খবর আসে। সাপের উপদ্রব চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ঘটনা নয়। এবার উদ্ধার হওয়া অজগর প্রায় সাড়ে চৌদ্দ ফুট লম্বা৷

উদ্ধারকারী অধ্যাপক জানিয়েছেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে বা পাহাড়ে আগুন দেয়ার কারণে এটি ক্যাম্পাসের কাছে চলে এসেছিল। সাপটির শরীরের কয়েকটি জায়গায় ক্ষতচিহ্ন ছিল যা আগুনে পুড়ে যাওয়ার কারণেও হতে পারে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাপ রাখার একটি কেন্দ্র আছে। সেখানে তিন দিন ধরে এটিকে রেখে খাবার-দাবার দেয়া হয়। প্রথম দিন মুরগী খেতে দেয়া হয়েছিল। সাপটির শরীরের ক্ষত সারিয়ে তোলার জন্য ওষুধ দেওয়া হয়।

বিবিসি রিপোর্টে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অজগর সাপ ধরা পড়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত দশ বছরে অন্তত সাতটি অজগর সাপ ধরা পড়েছে৷ প্রথম দুটি সাপ চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় দান করা হয়৷ এরপর থেকে যত অজগর ধরা পড়েছে সবকটি বনে নিয়ে গেয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে৷ পাহাড়ি এলাকার মাঝখানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক ধরণের বন্যপ্রাণীর বিচরণ হয়৷