দিপালী সেন, কলকাতা: স্কুলের শিক্ষাকে ‘মানানসই’ করে তোলার লক্ষ্যে পরামর্শ আহ্বান করেছে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক৷ তবে, ‘মানানসই’য়ের বিষয়েই বিভ্রান্ত শিক্ষাবিদদের একাংশ৷

পড়ুয়াদের চাপ কমাতে স্কুলের পাঠ্যক্রমকে আরও বেশি ‘মানানসই’ করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক৷

মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকরের মতে, কেতাবি শিক্ষার পাশাপাশি স্কুলের পাঠ্যক্রমে জীবনগত দক্ষতা, পরীক্ষামূলক শিক্ষণ, শারীরশিক্ষা ও সৃজনশীল দক্ষতারও প্রয়োজন৷ পড়ুয়াদের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কলকাতার শিক্ষাবিদদের একাংশ৷ কিন্তু, উদ্যোগটি নিয়ে বিভ্রান্ত রয়েছে বলে প্রকাশ পেয়েছে শিক্ষাবিদদের অন্য অংশে৷

স্কুলের পাঠ্যক্রমে শারীর ও সৃজনশীল দক্ষতা বিষয়ক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে৷ তা সত্ত্বেও নতুন করে এই উদ্যোগের পিছনে কেন্দ্রীয় সরকারের কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা নিয়ে বিভ্রান্ত শিক্ষাবিদদের একাংশ৷

এই বিষয়ে শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার বলেন, ‘‘মানানসই বলতে সরকার কী বোঝাতে চাইছে আমি বুঝতে পারছি না৷ স্কুল স্তরে তো আগে থেকেই কার্যকরী শিক্ষা রয়েছে৷ শারীরশিক্ষাও রয়েছে৷ এমনকী শারীরশিক্ষায় বিএড পর্যন্ত রয়েছে৷ সেক্ষেত্রে সরকার ঠিক কী চাইছে সেটা বোঝা যাচ্ছে না৷’’

তবে শুধু শারীরশিক্ষা নয়৷ পাঠ্যক্রমে সৃজনশীল দক্ষতা সংযুক্তিকরণের বিষয়েও বিভ্রান্ত পবিত্র সরকার৷ তিনি বলেন, ‘‘বিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের যে সমস্ত প্রোজেক্ট বা পেপার তৈরি করতে দেওয়া হয়, তা তাদের সৃজনশীল দক্ষতা যাচাই করার জন্যই দেওয়া হয়৷ এ ছাড়া একদিকে মাল্টিপল চয়েসের প্রশ্ন ও অন্যদিকে সৃজনশীল দক্ষতা চাইলে তো পাওয়া যাবে না৷’’ তাঁর মতে, ‘‘এমসিকিউ নির্ভর পরীক্ষা ও সৃজনশীল দক্ষতা একসঙ্গে মানানসই নয়৷’’

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ অমল মুখোপাধ্যায়৷ এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘‘বর্তমান সময়ে ভারতের যে অবস্থা, সেই অনুযায়ী বৃত্তিমূলক শিক্ষার উপর খুব জোর দেওয়া উচিত৷’’

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘দেশে কর্মসংস্থানের যা অবস্থা অর্থাৎ, দিনের পর দিন যেভাবে বেকারত্বের সংখ্যা বাড়ছে, সেই কারণে বর্তমানে একটি নতুন সংস্কৃতি চালু করা প্রয়োজন৷ তা হল, ছেলেমেয়েদের বৃত্তিমূলক শিক্ষার দিকে আগ্রহী করে তোলা৷ যার ফলে তারা অল্পদিনের মধ্যেই হাতেকলমে কাজ শিখে কোনও কাজ করতে পারবে, বা ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করতে পারবে৷’’

বৃত্তিমূলক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার পাঠ্যক্রমের বোঝা হাল্কা করার উপরও জোর দিয়েছেন অমল মুখোপাধ্যায়৷ তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার পাঠ্যক্রমের বোঝা হাল্কা করা খুব দরকার৷ সিলেবাসকে ‘মানানসই’ করে তোলার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে পরামর্শ চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘প্রথমত, স্কুল স্তরে শিক্ষার পাঠ্যক্রমের বোঝা হাল্কা করতে হবে৷ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষা দিতে হবে৷ তার পর ছাত্রছাত্রীদের প্রবণতা বিচার করে উচ্চশিক্ষার যোগ্য প্রার্থীদের শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে৷ আর বাকিদের জন্য বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালু করতে হবে৷’’