সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা:  তাঁর সেই দহরম মহরম আর নেই। তবে দলের কর্মী হিসাবে তিনি এখনও সক্রিয়। প্রতিদিন পার্টি অফিসে এসে সময় দেন। রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রী মদন মিত্র এখন শুধুই তৃণমূলের একনিষ্ঠ কর্মী। মন্ত্রী পদে নেই বলে তাঁর ফ্যান ফলোয়ার কমে গিয়েছে এমনটা ভাবলে ভুল করবেন। তা বলে ‘যার তার’ সঙ্গে তাঁকে বসিয়ে দেবে! এ কেমন ভক্ত।

ফেসবুক খুললেই এখন মদন মিত্রকে দেখা যাচ্ছে। তবে তিনি একা নন , তিনি থাকছেন সদলবলে। কখনও তিনি রয়েছেন রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে, তো কখনও রয়েছেন লেডি মাউন্টব্যাটেনের সঙ্গে। একসময় রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী যে মাঠে নেমে রামোসের গোল আটকে দিয়েছেন সে খবর কি জানেন ? জানেন কি তিনি সলমন খানের সঙ্গে গাড়ি চড়ে ঘুরে বেরিয়েছেন? অথবা আম গাছের ছায়ায় রবি কাদম্বরীর প্রেম দেখে মজা নিয়েছেন! দায়িত্বে, ‘madan mitra at unusual places’ ফেসবুক পেজ অর্থাৎ মদন মিত্রকে এমন এমন জায়গায় উপস্থিত রয়েছেন যা ভাবনাতিত।

মদন মিত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন , এসব তাঁরও ভাবনাতিত। তিনি বলেন , “আমি জানি না এসব কি!” তিনি না বললে কি হবে মদন মিত্রর কিছু ‘ভক্ত’ তাঁর বিভিন্ন অদ্ভুত স্থানে উপস্থিতির কথা কল্পনা করেছে এবং ফটোশপে ছবি বানিয়ে বিভিন্ন ছবির সঙ্গে তাঁকে জুড়ে দিয়েছে। ওই পেজে স্পষ্ট লেখা রয়েছে তারা কতটা মদন মিত্রের ভক্ত।

ভোটের ভরা বাজারে নেটিজেনদের ‘সেন্স অফ হিউমরে’ অনেক নেতানেত্রী বিদ্ধ। কিন্তু মদন মিত্র না লড়ছেন আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে , না রয়েছেন বিশেষ রাজনৈতিক আলোচনায়। তা হলে এ কেমন প্রচার? মদনবাবু বলেন , “আমার সত্যিই ভক্ত হয় তাহলে এমন করবে না’। এমন সোশ্যাল ঝড় প্রসঙ্গে অবাক এবং কিছুটা ক্ষুব্ধ মদন মিত্র? ‘কভি খুশি কভি গম’ ছবির সুন্দর পোস্টার, মাঝ মাঠে হঠাৎ হাজির মদন মিত্র। মদনবাবু শুনে বললেন , “এগুলো আইনত অপরাধ। এগুলোর কোনও অর্থ নেই।”

মদন মিত্র স্টেজে উঠে গান গেয়েছেন এই ছবি খুব অপরিচিত নয়, কিন্তু মাধুরী ঐশ্বর্যের সঙ্গে ‘ডোলা রে’ নেচেছেন! পাশাপাশি এতগুলি প্রায় অসম্ভব কান্ড কিভাবে সম্ভব হচ্ছে? মদন মিত্র বলেন, “ আমি জানি না এই কাজ কারা করছে। তবে এটুকু বলতে পারি যে , কারও নামে কোনও ফেসবুকে পেজ খুলতে গেলে তার নুন্যতম পারমিশন নেওয়া উচিৎ। না হলে সে অপরাধ করছে। সেটাই ওই পেজ করছে। এটা একদমই ঠিক নয়।”