স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: নার্সিংয়ে অতিরিক্ত ইংরেজি সিলেবাস পড়ার চাপ সহ্য করতে না পেরে বেশ কিছুদিন আগে কলকাতার একটি নামী মেডিকেল কলেজে নার্সিং হোস্টেলের ভিতর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিল বছর কুড়ির এক যুবতী। সেই ঘটনার স্মৃতি উসকে দিয়ে ফের নার্সিং ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটল বাঁকুড়ায়। পর পর নার্সিং ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় রীতিমত আতঙ্কিত অভিভাবকরা।

সোমবার বর্ধমানে হোস্টেলে এএনএম নার্সিং প্রশিক্ষণরত এক ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরের বনমালীপুর-শিববাগান এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম রিয়া দে (১৯)। সোমবার বর্ধমানের হোস্টেলের ভিতরই সে আত্মহত্যা করে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। পাশাপাশি ওই ছাত্রীর হোস্টেলের রুম থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুরের বনমালীপুর-শিববাগান এলাকার সম্ভ্রান্ত কৃষক পরিবারের সন্তান রিয়া। দুই বোনের মধ্যেই সে ছিল বড় বোন। ছোটো বোন এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। অন্যদিকে রিয়া বর্ধমানে হোস্টেলে থেকে এএনএম নার্সিং’এর প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। সোমবারই সে হোস্টেলের ভিতর আত্মহত্যা করে বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান। তবে ঠিক কি কারণে সে আত্মহত্যার মত এতবড় ঘটনা ঘটাল সেই বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি। তবে মানসিক অবসাদ থেকেই সে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান।

সূত্রের খবর, ওই ছাত্রী আত্মহত্যার আগে একটি সুইসাইড নোটও লিখে গিয়েছে। সেখানে বোনকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা বলার পাশাপাশি বর্তমান সময়ে ‘জেনারেল কাস্টের ছেলে মেয়েরা চাকুরী ক্ষেত্রে বঞ্চিত’ হচ্ছে বলেও লেখা রয়েছে। এদিকে পরিবারের বড় মেয়ের এই অস্বাভাবিক মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার। রিয়ার দাদা তন্ময় দে বলেন, ভাইফোঁটাতেও বাড়িতে এসে ও খুব আনন্দ করেছিল। কি করে এই ঘটনা ঘটল তিনি কিছুই বুঝতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। ঠাকুমা মঙ্গলা দে বলেন, নাতনি সব সময় চাকরী করার কথা বলত, কিন্তু তার পরেও এই ঘটনা কি করে ঘটল তিনিও ভেবে পাচ্ছেন না।