শংকর দাস, বালুরঘাট: হায়দরাবাদের ঘটনার পুনরাবৃত্তি দক্ষিণ ঘটল দিনাজপুরে।এবারে এক কিশোরীকে জলসা দেখানোর নাম করে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও পরে নৃশংস ভাবে খুনের ঘটনা। দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ থানার বেলখোর গ্রামের এই ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার সকালে বেলখোর গ্রামের পাকুড়তলার নির্জন এলাকায় কালভার্টের তলায় শেয়ালে অগ্নিদগ্ধ একটি মৃতদেহ খুবলে খেতে দেখেন স্থানীয় কৃষকরা। খবর পেয়ে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। রাতে কার্লভার্টের উপরে প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কাটা হয়। তারপর প্রমান লোপাটের চেষ্টায় মৃতদেহটি কার্লভার্টের তলায় টেনে নিয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রথমাবস্থায় মৃতার নাম ঠিকানা কিছুই পাওয়া না গেলেও বিকেলে তাঁকে শনাক্ত করেন পরিবারের লোকেরা। ঘটনাস্থল থেকে একটি বাইক সহ বেশ কিছু প্রমান উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল দুপুর ১ টা নাগাদ বাড়ি থেকে সাত কিলোমিটার দূরে ফুলবাড়ি বাজারে চাদর কেনার নাম করে সে বের হয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এর পর কেউ তাঁকে রাতে জলসা দেখানোর নাম করে অশোকগ্রাম এলাকায় নিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে প্রমান হিসেবে বেশ কিছু জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে সোমবারে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেলখোরের মৃতদেহ দেখে সন্দেহ হয় পরিবারের লোকেদের। বিকেলে তাঁরা বালুরঘাট হাসপাতালের মর্গে গিয়ে নির্যাতিতার মৃতদেহ শনাক্ত করেন।

এই বিষয়ে মৃতার দাদা বিশ্বজিৎ বর্মন জানিয়েছেন, রবিবার দুপুরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ ছিল তাঁর বোন। সন্ধ্যের পর থেকে তাঁর সঙ্গে থাকা মোবাইলের সুইচ অফ পাওয়া যায়। রাত থেকেই আত্মীয় স্বজন ও তাঁর বন্ধুদের বাড়িতে খোঁজখবর করা হয়। সোমবার দুপুরে সোশ্যাল মিডিয়ার খবরে মৃতদেহের ছবি দেখে তাঁরা বোনকে কিছুটা হলেও চিনতে পারেন। বিকেলে হাসপাতালে এসে শনাক্ত করেছেন। কেউ তাঁর বোনকে ফুঁসলিয়ে জলসা গান দেখতে নিয়ে গিয়েছিল। কারণ, রবিবার রাতে অশোকগ্রাম এলাকায় জলসা গানের অনুষ্ঠান হয়েছিল বলেও তিনি জানান। প্রথমে ধর্ষণ করার পর নৃশংস ভাবে তাঁকে খুন করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে এদিন দুপুরে সাংসদ ডঃ সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে কুমারগঞ্জ থানায় ডেপুটেশন দিয়েছে বিজেপি। এদিন সাংসদ সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন যে, পুলিশকে ২৪ঘন্টার সময় সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় জড়িতরা গ্রেফতার না হলে বিক্ষোভ আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।

পুলিশ সুপার দেবর্ষী দত্ত জানিয়েছেন, সকালেই পুলিশ পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু প্রমান উদ্ধার করা গিয়েছে। ঘটনায় কতজন জড়িত ছিল তদন্তের স্বার্থে তা বলা যাবে না। খুব শীঘ্রই ঘটনার কিনারার সঙ্গে সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে ফেলা হবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।