প্রতীতি ঘোষ, বারাকপুর : বারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রের সেলিব্রেটি তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্ত্তী বহিরাগত। তাঁকে নিয়ে বারাকপুরের তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল। বারাকপুরের স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব চেয়েছিল স্থানীয় প্রার্থী বারাকপুরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক। রাজ চক্রবর্তীকে নিয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বারাকপুরের ২ শীর্ষ তৃণমূল নেতা।

বারাকপুরের পুরপ্রশাসক উত্তম দাস এবং লালন পাসোয়ান জানিয়েছিলেন, স্থানীয় তৃণমূল প্রার্থী দেওয়া উচিত ছিল। প্রার্থী হিসেবে নাম উঠে এসেছিল বারাকপুর পুরসভার পুর প্রশাসক উত্তম দাসের। কিন্তু দল বারাকপুরে সেলিব্রেটি টলিউড সিনেমার ডিরেক্টর রাজ চক্রবর্তীকে প্রার্থী ঘোষণা করে দেয়।

এর আগে বারাকপুরের তৃণমূল বিধায়ক ছিলেন শীলভদ্র দত্ত। তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে বারাকপুর পুরসভা এলাকায় তৃণমূল নেতৃত্ব দিচ্ছেন উত্তম দাস। বারাকপুরের স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা ভেবেছিলেন উত্তম দাসকে দল প্রার্থী করবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।

এদিকে রাজ চক্রবর্তী প্রার্থী হওয়ার পর উত্তম দাস তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, “আমি রাজ চক্রবর্তীকে চিনি না, চুন খেয়ে মুখ পুড়েছে, দই দেখলেও ভয় লাগে।”

উত্তম দাসের প্রার্থী নিয়ে অপছন্দের বিষয়টি তৃণমূলের অন্দরে চাপা থাকেনি। প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার দু দিনের মাথায় রাজ চক্রবর্তীকে নিয়ে বারাকপুরের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন ফিরহাদ হাকিম এবং জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

রবিবার বারাকপুর নোনা চন্দন পুকুর ক্লাবে রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে উত্তম দাস, লালন পাসোয়ানকে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন ফিরহাদ হাকিম ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক । সেখানে সেলিব্রেটি বহিরাগত প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও সেই মনোমালিন্য মিটিয়ে দেন ফিরহাদ ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

ফিরহাদ হাকিম বলেন, “বিজেপিকে হারানোই একমাত্র লক্ষ্য । এই লক্ষ্যে আমরা সফল হব । মিঠুন চক্রবর্তী কখন কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে থাকে বোঝা মুশকিল। এর আগে আমাদের সঙ্গে ছিলেন, তার আগে সুভাষ চক্রবর্তীর সঙ্গে ছিলেন। উনার কোন দলের সঙ্গে থাকা বা না থাকা বাংলার ভোটে প্রভাব ফেলবে না। প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেডের ভাষণ হতাশ করেছে। ব্রিগেডের কোনও প্রভাব ভোটে পড়বে না।”

এই বিষয়ে রাজ চক্রবর্তী বলেন, “বারাকপুরের কর্মীরা উজ্জীবিত। কোনও ক্ষোভ নেই কর্মীদের মধ্যে। আগে যা ছিল সেটা অতীত। বারাকপুরের আসন তৃণমূলকে জিতিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করব আমরা। দিদির গত ১০ বছরের উন্নয়নের ব্যাখ্যা দেব আমরা । মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যাব। বারাকপুরের মানুষ আমাকে ২৪ ঘণ্টা কাছে পাবে। আমাকে সেলিব্রেটি ভাবার কোনও কারন নেই। আমি আপনাদের পাশেই হালিশহরে বড় হয়েছি। নৈহাটি কলেজে পড়াশোনা করেছি।”

বৈঠকে উপস্থিত রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, “আমাদের দলে মনোমালিন্য, ঝগড়া হয়। আবার আমরা সবাইকে বুকে টেনে নিই। ভোট আসলে দলের মধ্যে একটু ঝগড়া, মনোমালিন্য না হলে কেমন যেন লাগে । আজকে বারাকপুরের এবং নোয়াপাড়া নিয়ে কর্মীদের মধ্যে যে ক্ষোভ ছিল তা মিটে গিয়েছে । নোয়াপাড়ার প্রার্থী মঞ্জু বসুর সঙ্গে ওই এলাকার দুই পুর প্রশাসক সঞ্জয় সিং ও মলয় ঘোষের বৈঠকে তাঁদের সমস্যা মিটে গিয়েছে। বনগাঁ উত্তরের সমস্যাও মিটে গিয়েছে । আমাদের একমাত্র লক্ষ্য বিজেপিকে হারানো । আর আজকের ব্রিগেডকে আমি বলব বাম কংগ্রেসের থেকেও খারাপ । ওদের যা লোক হয়েছিল তার ২৫% লোক বিজেপির ব্রিগেডে হয়নি। মিঠুন কোনও প্রভাব ফেলবে না । বাংলার একমাত্র জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ও তুলনা করবেন না ।”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।