স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: নির্বাচন পরবর্তী হিংসা ও নানা অপ্রীতিকর ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হল তপন থিয়েটারে। উপস্থিত ছিলেন কবি শঙ্খ ঘোষ। তাঁরই নেতৃত্বে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।

শঙ্খ ঘোষ ছাড়াও এই প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন শহরের নানা বিদ্বজন। দেবেশ রায়, অপর্ণা সেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক সেন, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, বিভাস চত্রবর্তী, নবনীতা দেবসেন, চন্দন সেন প্রমুখ উপস্থিত থেকে বাংলায় মেরুকরণের রাজনীতির নিন্দে করেন।

আরও পড়ুন: ‘কাতারগেট’ কান্ডে গ্রেফতার প্লাতিনি

সভায় বক্তব্য রাখেন কৌশিক সেন। তিনি বলেন, “রাজ্যে এত গুলিবোমা কোথা থেকে আসছে? শত্রুকে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। আমরা পরম বন্ধু মনে করতাম কমিউনিস্ট পার্টিকে। তাঁরা আমাদের শত্রু হয়েছে। ইতিহাস আমাদের সিভিল সোস্যাইটি মুভমেন্টের সুযোগ দিয়েছিল। আমরা সেই সুযোগকে জলাঞ্জলি দিয়ে কমিটিতে ঢুকে পড়েছি।”

অপর্ণা সেনের কথায় আগে হিন্দু-মুসলিমের বিরোধ ছিল না বাংলায়। কিন্তু এখন তা মুখ্য হয়ে উঠেছে। এমনটা আগে কখনো দেখিনি। কম বয়সে কফি হাউসে কত আড্ডা দিয়েছি বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে। কত তর্ক হত কিন্ত মনান্তর হত না। সভায় সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন চন্দন সেন।

এই প্রতিবাদ সভা রবীন্দ্রসদনে হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা পাল্টে তপন থিয়েটারে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেহেতু সরকার প্রতি প্রতিবাদ, সে জন্যই কি সরকারি প্রেক্ষাগৃহ রবীন্দ্রসদনে এই সভা করতে বাধা দেওয়া হল? এমনও প্রশ্ন উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরিষেবার নিরাপত্তায় চালু কলকাতা পুলিশের হেল্পলাইন

তবে প্রতিবাদ সভার আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম নাট্য পরিচালক চন্দন সেন এ ব্যাপরে বলেন, “অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় টাকা জমা দেবার সময় রবীন্দ্রসদন কর্তৃপক্ষ জানায় সন্ধে ৭ টায় প্রেক্ষাগৃহ পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে দেরি হত। পরে শঙ্খ বাবুর নির্দেশে তপন থিয়েটারে সভার আয়োজন করি।”

অন্যদিকে, পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত শাসক দলের সন্ত্রাস এবং পরবর্তী সময় হিংসা ছড়িয়ে থাকার ঘটনাকে কাটাক্ষ করে বুদ্ধিজীবী মঞ্চের পক্ষ থেকে একটি নাগরিক সভা অনুষ্ঠিত হয় দুপুর সাড়ে তিনটায় মৌলালী যুবকেন্দ্রে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিভাস চক্রবর্তী, সুজাত ভদ্র প্রমুখ।