দিশপুর: তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল অসম। শনিবার সন্ধ্যাবেলা অসমের পাশাপাশি শিলিগুড়ি, কোচবিহারেও এই কম্পন অনুভূত হয়। মৃদু কম্পন অনুভূত হয় আলিপুরদুয়ার জেলাতেও। জলপাইগুড়িতেও সামান্য ভূমিকম্প হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এদিনের ভূমিকম্পের উৎসস্থল অসমের বঙ্গাইগাঁও বলে জানা গিয়েছে। যেখানে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.০।

ভরসন্ধ্যায় কম্পন অনুভূত হওয়াতে আতঙ্কে বাড়ির বাইরে বেড়িয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও এই ভূমিকম্পের ফলে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এদিন সন্ধে ৬.১৮ মিনিট নাগাদ এই কম্পন প্রথম বুঝতে পারেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে অনেকেই নিরাপত্তার জন্য দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে জেলাগুলিতে।

মাঝে মাঝেই উত্তরবঙ্গে ভূমিকম্প হয়। কিছু দিন আগেই উত্তরবঙ্গে কম্পনে রিখটার স্কেলের মাত্রা ছিল ৩.৮। এদিনও ভূমিকম্পে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে। আচমকা কম্পনে ভয়ে রাস্তায় নেমে আসেন বহু মানুষ। শিলিগুড়ির মত শহরে বহু অফিস কাছারি রয়েছে। ফলে সেখানে বহুতল গুলি থেকে লোকজন দ্রুত নেমে আসেন পথে। কার্যত গোটা উত্তরবঙ্গ জুড়ে এদিন সন্ধ্যা বেলায় হুলস্থুল কাণ্ড পড়ে যায়। তবে এদিনের ঘটনায় কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।

এই বিষয়ে সিকিম আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা জানিয়েছেন, বেলা ৩টা ৪ মিনিট নাগাদ প্রথম কম্পন অনুভূত হয় উত্তরবঙ্গের বিস্তির্ণ অঞ্চলে। জানা গিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল অরুণাচল প্রদেশের পূর্ব কামেং জেলা।

স্বভাবতই অরুণাচলে কম্পনের মাত্রা ছিল অনেকটাই বেশি। রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা ছিল ৫.৫। অরুণাচল-বাংলার পাশাপাশি কম্পন অনুভূত হয়েছে বন্যা কবলিত অসমেও।

প্রসঙ্গত, গত বছর একাধিকবার তীব্র কম্পন অনুভূত হয় বাংলায়। যার বেশিরভাগই উত্তরবঙ্গের একটা বিস্তির্ণ অঞ্চলে প্রভাব পড়ে। যদিও তেমন বড় কোনও কম্পন অনুভূত হয়নি। তবে এবার রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছাড়াল ৫। যা যথেষ্ট আতঙ্ক তৈরি করেছে উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে।

অন্যদিকে, এই কম্পনের পর আফটার শকের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে উত্তরবঙ্গের মানুষের মধ্যে। নতুন করে ফের কম্পন অনুভূত হতে পারে, সেই আতঙ্কে রাস্তায় কিংবা নিরাপদ জায়গার খোঁজে বহু মানুষজন।