প্রতীতি ঘোষ, বারাকপুর: করোনতঙ্কের জের।অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে টালবাহানা। সময় মতো হাসপাতালে পৌঁছতে না পারায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন প্রৌঢ়। করোনা আবহে এমন মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে, উত্তর ২৪ পরগনার বেলঘরিয়া থানার বিবেকানন্দ নগর এলাকায়।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যাক্তির নাম রাম একবাল মাঝি (৫০) । এদিকে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে উঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা ওই অ্যাম্বুলেন্সটিতে ভাঙচুরও চালায়। পরে বেলঘরিয়া থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ।

বেলঘড়িয়া বিবেকানন্দ নগরের বছর ৫০ এর বাসিন্দা রামএকবাল মাঝি। সোমবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। সেই সময় তাঁতককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য এলাকারই বিবেকানন্দ নগর উন্নয়ন সেবা সমিতির থেকে অ্যাম্বুলেন্স চাওয়া হলে সেই আম্বুলান্স প্রথমে দিতে অস্বীকার করা হয়। প্রায় দু ঘণ্টা সময় কেটে যাওয়ার পর পাড়ার লোকরা দলবদ্ধ ভাবে অ্যাম্বুলেন্সের দেখাশোনার দ্বায়িত্বে থাকা ব্যাক্তির বাড়ি ঘেরাও করলে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি দেন ওই ব্যাক্তি ।

তবে বিবেকানন্দ সেবা সমিতির পক্ষ থেকে কোনও অ্যাম্বুলেন্স চালককে পাঠানো হয়নি। হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যাক্তিকে প্রাণে বাঁচাতে বিবেকানন্দ নগরের এক যুবক লাইসেন্স না থাকলেও নিজেই ওই অ্যাম্বুলেন্স চালিয়ে রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

শেষ পর্যন্ত ওই রোগীকে নিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এরপরই এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে ওই অ্যাম্বুলেন্সটিতে ভাঙচুর চালায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এর আগেও বেশ কয়েকজন মুমূর্ষু রোগীকে অ্যাম্বুলেন্স দিতে অস্বীকার করা হয় বেলঘরিয়া সেবা সমিতির পক্ষ থেকে।

প্রসঙ্গত, দমদম কেন্দ্রের প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ অমিতাভ নন্দী তাঁর ত্রাণ তহবিল থেকে স্থানীয় বেলঘরিয়া বিবেকানন্দ সেবা সমিতিকে ওই অ্যাম্বুলেন্সটি দান করে ছিলেন। বিবেকানন্দ সেবা সমিতি সংগঠনটি সিপিএম পরিচালিত। অভিযোগ, সোমবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া রোগী রাম একবাল মাঝি স্থানীয় সক্রিয় তৃণমূল কর্মী ছিলেন।

রাজনৈতিক শত্রুতার কারনে বিবেকানন্দ সেবা সমিতি অসুস্থ তৃণমূল কর্মীকে অ্যাম্বুলেন্স দিতে দেরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকার তৃণমূল কর্মীরা। উত্তেজিত জনতা রোগীর মৃত্যুর পর বিবেকানন্দ সেবা সমিতির ওই অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর করে। পরে বেলঘরিয়া থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.