ফাইল ছবি

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: প্রতিবেশী রাজ্যেই ছিল সে। কিন্তু সে যে এতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে তা বুঝতে পারেনি খাস আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আবহবিদরাও। শুক্রবার সকালেই ঝড় বৃষ্টির হালকা সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছিল হাওয়া অফিস কিন্তু তা এমন তেড়েফুঁড়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে শহরের উপর তা বোঝা যায়নি। বিকাল ৫.২৬ মিনিট, ঘণ্টায় ৬৮ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী আছড়ে পরে শহরের উপর।

হাওয়া অফিসের অধিকর্তা গনেশকুমার দাস বলেন , “ঝাড়খণ্ডের মেঘ ঢুকেছে। সে জন্য আমরা পূর্বাভাসও দিয়েছিলাম। সতর্কতা জারি করেছিলাম বজ্র বিদ্যুৎসহ ঝড় বৃষ্টির কিন্তু সেটা এতটা বেশি শক্তিশালী হবে বোঝা যায়নি। মেঘ যত কলকাতার দিকে এগিয়েছে তত শক্তি বেড়েছে। যার জেরেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।” এই মেঘের উচ্চতা ছিল ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার।

কলকাতায় বৃষ্টির আগে তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ ৩৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিকের চেয়ে এক ডিগ্রি বেশি ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে দুই ডিগ্রি বেশি৷ আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯০ ও সর্বনিম্ন ৩১৷ বৃষ্টির পরে শহরের তাপমাত্রা অল্প কমে ৩৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে যা স্বাভাবিক। সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কোনও পরিবর্তন হয়নি। আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৮৯ ও সর্বনিম্ন ৩১৷ এখনও পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ১৮.৬ মিলিমিটার। ঝড়ে বিবাদি বাগে বড় একটি গাছ ভেঙে পড়ে৷

আচমকা কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয় ট্রেন চলাচল৷ শিয়ালদহের বিভিন্ন স্টেশনে ছিঁড়ে যায় ওভারহেডের তার৷ ফলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় শিয়ালদহ মেন ও দক্ষিণ শাখার ট্রেন চলাচল৷ ছুটির দিনেও যারা কোথাও গিয়েছিলেন শিয়ালদহ শাখায় দীর্ঘক্ষণ ট্রেন না পেয়ে চূড়ান্ত নাকাল হন। মেয়ো রোড, বিবাদী বাগ, পার্কস্ট্রীট, শেক্সপিয়র সরণী, বিধাননগর, কাঁকুড়গাড়ি, বেলেঘাটায় গাছ উপড়ে যায়৷ ফলে যান চলাচল কিছুটা ব্যাহত হয়৷

উল্লেখ্য গত রবিবার কলকাতায় ৭২ কিমি প্রতিঘণ্টা গতিবেগে কালবৈশাখী হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত এই মরসুমে এটিই সর্বাধিক গতিবেগের ঝড় বলে খবর৷ গত মরসুমে যা ছিল ৯৮ কিমি প্রতি ঘণ্টা। গত মরসুমে শহরে ৩৮টি কালবৈশাখি হয়েছিল বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর৷

হোলির ছুটির দিনে শুরুটা হিয়েছিল অস্বস্তির মধ্যেই৷ যত বেলা গড়িয়েছে ঘামে-গরমে নাকাল হয়েছে দক্ষিনবঙ্গের মানুষ৷ প্রতিবেশী রাজ্যের মেঘ এবং সঙ্গে ক্রমাগত পশ্চিম দিকের আর্দ্র হাওয়া শুক্রবার সন্ধে নাগাদ ঝড় বৃষ্টির আবহ তৈরি করে। বিকেল নামতেই আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামে৷ সঙ্গে তুমুল ঝড়। পূর্ব বর্ধমানের বুদবুদে বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয় দুজনের৷

হুগলির একাধিক জায়গায় শিলাবৃষ্টির খবর মেলে৷ বেশি উচ্চতায় মেঘ হওয়ার ফলে শিলাবৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। বিকালের সতর্কতায় আগেই বলা হয়েছিল কলকাতা, হাওড়া, হুগলিসহ উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে৷ রাজ্যের পশ্চিমের জেলা পুরুলিয়ায় ৬ মিলিমিটার ও বাঁকুড়ায় ৩.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তবে তাপমাত্রা কমার কোনও লক্ষন নেই। উলটে দিন এবং রাতে দুই থেকে তিন ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে রাজ্যের সমতল অঞ্চলগুলিতে।