স্টাফ রিপোর্টার,মালদহ: লকডাউনের মধ্যে জমায়েত করার প্রতিবাদ করায় হাতুড়ে চিকিৎসকের বাড়ি ভাঙচুর করে লুটপাট চালাল দুষ্কৃতীরা।

চোখের সামনে এমন ঘটনার প্রতিবাদ করায় এবং ওই চিকিৎসককে বাঁচাতে এসে প্রতিবেশী আরও ৩ জন দুষ্কৃতীদের হামলায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের বাড়ি ভাঙচুর করেছে সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের দল বলে অভিযোগ। এমনকি এলাকার একটি মন্দিরের প্রণামী বাক্স কয়েক হাজার টাকা, দেবীমুর্তির অলংকারও লুট করে দুষ্কৃতীরা।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে, হরিশ্চন্দ্রপুর থানার রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের চন্ডিপুর গ্রামে। রাতেই পুরো ঘটনার বিষয়টি সোশ্যাল-মিডিয়ায়-ভাইরাল হতেই টুইট বার্তায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকার ।

তিনি তাঁর টুইট বার্তায় সরাসরি রাজ্য সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে লিখেছেন যে, হরিশ্চন্দ্রপুর থানার চন্ডিপুরের ঘটনাটি উদ্বেগজনক। সকলকে প্রতিহত করা উচিত। পুলিশ প্রশাসন কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য না দেখেই তাদের বুদ্ধিমত্তা লাগিয়ে কাজ করুক। পাশাপাশি এব্যাপারে সমস্ত সম্প্রদায়ের নেতাদের এলাকার শান্তি স্থাপনের ব্যবস্থা করা উচিত।

এদিকে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের এই হামলার ঘটনার পর রাজ্যপালের টুইট বার্তা সামনে আসতেই রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়েছে জেলা পুলিশ ও প্রশাসন। দুষ্কৃতীদের হামলার ঘটনার পর বিশাল পুলিশবাহিনী হরিশ্চন্দ্রপুর থানার চন্ডিপুর গ্রামে পৌঁছায়। বাড়ানো হয়েছে টহলদারি। ইতিমধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই হামলার ঘটনায় তিনজন জখম হয়েছেন। তাদের রবিবার রাতেই হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চন্ডিপুর গ্রামের এক হাতুড়ে ভবেশ দাস কিছু মানুষকে জমায়েত না করার জন্য প্রতিবাদ করেছিলেন। এমনকি ওই গ্রামে বাসিন্দারা পাশের একটি গ্রামের করোনা ধরার পর বাসের ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে। এরপরও কিছু পরিযায়ী শ্রমিক ওই হাতুরের কাছে নাকি জ্বর সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গিয়েছিলেন ওষুধ নিতে । সেই ভবেশবাবুই সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। আর এনিয়ে শুরু হয় বিবাদের সূত্রপাত। রবিবার দুপুর থেকেই গোলমাল ক্রমশ চলতে থাকে।

চন্ডিপুর এলাকার বাসিন্দা হারাধন দাস, দেবাশীষ দাসের বক্তব্য , “পাশের গ্রামে করোনা ধরা পড়েছে। সেই জন্য আমরা এলাকার রাস্তা বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু বহিরাগত কিছু মানুষ লকডাউন মানছিলো না । লকডাউনের মধ্যে অবাধে জমায়েত করছিল। এব্যাপারে প্রতিবাদ করেছিলেন হাতুড়ে চিকিৎসক ভবেশবাবু। পাশাপাশি উনার কাছে কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিক জ্বর নিয়ে গিয়েছিলেন দেখাতে। তিনি সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন ।”

জানা গিয়েছে,এরপরই ওরা বহিরাগতদের নিয়ে রবিবার রাতে পরিকল্পনা করেই ওই হাতুরের বাড়িতে হামলা চালায়। ভাঙচুর করা হয় হাতুড়ে ভবেশ দাসের বাড়ি । এই ঘটনার পর প্রতিবেশী কয়েকজন ভবেশবাবুকে বাঁচাতে গেলে তাদের বাড়িও ভাঙচুর করা হয় । সামনের একটি রাধাগোবিন্দের মন্দিরের প্রণামী বাক্স প্রায় ৩৫ হাজার টাকা, কয়েক ভরি সোনা , চাঁদির দেবীমুর্তির অলংকার লুঠ করে দুষ্কৃতীরা । আধঘন্টা ধরে দুষ্কৃতীদের তান্ডবের পর গোটা গ্রাম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হরিশ্চন্দ্রপুর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী।

এদিকে পুরো ঘটনাটি জানার পর চাঁচোল মহকুমার এসডিপিও সজল কান্তি বিশ্বাস সোমবার সকালে ওই গ্রামে তদন্তে যান । বাড়ানো হয় পুলিশের নজরদারি। নামানো হয় কমব্যাট ফোর্স। এই ঘটনায় জড়িতদের তল্লাশি শুরু করেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ।

পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, এই হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এই ঘটনায় জড়িত হামলাকারীদের খোঁজ চালানো হচ্ছে।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব