স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিজেপির এক পর্যবেক্ষক বৈঠকের মাঝেই নিজের চেয়ারে ঘুমোচ্ছেন৷ অন্য এক নেতা সেই ছবি তুলে তা দলের অভ্যন্তরীন হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে পোস্ট করে দিয়েছেন৷ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই হোয়াটস অ্যাপ মেসেজ বিজেপি নেতাদের ফোন থেকে ফোনে ছড়িয়েছে৷ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ যখন জয়নগরে গণতন্ত্র বাঁচাও সভামঞ্চে বক্তব্য রাখছেন, সেই সময়ই এই বিতর্ক বেশ দানা বেধেছে৷ দলের অন্তর্দ্বন্দ্বের একটি বহমান ধারা যে রয়েছে, তা ইতিমধ্যেই টের পেয়েছেন রাজ্য নেতৃত্ব৷

বিজেপির কলকাতা উত্তরশহরতলী জেলার পর্যবেক্ষক অনল বিশ্বাসের ঘুমন্ত ছবি দলের অভ্যন্তরীন হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে কে বা কারা পোস্ট করেছে – সেই বিষয়ে জল্পনা ছড়িয়েছে৷ ছবিতে দেখা যাচ্ছে, অনলবাবু নিজের আসনে ঘুমোচ্ছেন৷ প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, তাঁর পাশে যে নেতা বসে রয়েছেন, তিনি নিজের ক্যামেরার সেলফি মোডে ওই মুহূর্ত ফ্রেমবন্দী করেছেন৷

ছবিটি যখন হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে পোস্ট করা হয়েছে, নিচে লিখে দেওয়া হয়েছে – ‘‘এরাই সেই রাজ্য নেতৃত্ব৷ যারা আমাদের এক এক জন জেলার পর্যবেক্ষক- দণ্ডমুণ্ডের কর্তা, বুঝলাম না দিল্লির সম্মেলন থেকে এরা আমাদের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কি বার্তা শুনে এলেন’’

ছবিটিকে যারা হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে প্রচার করেছিলেন (যদিও দলের এক পক্ষের দাবি সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রচারিত হয়েছে ছবিটি৷) তাদের মধ্যে একজন কলকাতা উত্তরশহরতলী জেলার সভাপতি মানস ভট্টাচার্য৷ যদিও মানসবাবু বক্তব্য, তিনি প্রচার করেননি৷ তিনি শুধু ‘মেসেজ’টা ফরওয়ার্ড করেছেন৷ অন্য কেউ এই পোস্ট করে থাকতে পারে৷ যদিও মানসবাবু নিশ্চিত দিল্লির জাতীয় সম্মেলনেই অনল বিশ্বাসের ঘুমন্ত ছবি তোলা হয়েছে৷ কিন্তু অনলবাবু নিজে ছবিটি দেখে বুঝতে পারছেন না – কোথায় তিনি ঘুমন্ত অবস্থায় বসে আছেন৷ তার মনে পড়ছে না৷

এদিন সকালে, অনলবাবু বলেন, ‘‘ছবিটা দেখেছি৷ ওই ছবি নিয়ে আমার ব্যক্তিগত কোনও মতামত নেই৷ কোন ব্যক্তি ছবি নিয়ে কী বলছে, তারও আমার কাছে কোনও মূল্য নেই৷ কলকাতা জোনের দায়িত্বে থাকা ড. সুভাষ সরকারকে বিষয়টি জানাবো৷ তিনিই আমার উর্ধ্বতন নেতা৷ দিলীপদা (রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ) কেও জানাবো৷’’

অনলের আরও বক্তব্য, কারও সঙ্গে তার ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই৷ আজও (বৃহস্পতিবার) সাংগঠনিক বৈঠক রয়েছে৷ আলোচনা হবে৷ ‘‘আমি মানস ভট্টাচার্যকে ফোন করেছিলাম৷ কিন্তু কথা হয়নি৷ আমার মনে হয় ওই ব্যক্তির মানসিক সমস্যা রয়েছে৷’’ তবে তিনি যে ঘুমোচ্ছিলেন, তা অস্বীকার করেননি অনল৷ তিনি বলেন, ‘‘প্রচুর পরিশ্রম করি৷ রাত দুটোয় ঘুমোতে যাই৷ ভোর ৬টায় উঠে যাই৷ কোন বৈঠক বুঝতে পারছি না৷ অনেক রাজ্য বা কেন্দ্রের অনেক বৈঠক করেছি৷ ওই সময় হয়তো চোখ লেগে এসেছিল৷’’

অন্যদিকে, মানসবাবু বক্তব্য, ‘‘উনি যদি আমার উপর রাগ করেন, কিছু করার নেই৷ খিন্তু উনি ঘুমোচ্ছিলেন, এটা তো ঘটনা৷ এটা উনি অস্বীকার করতে পারেন না৷ ছবিতে দেখা যাচ্ছে৷ উনি জবাব চাইলে, আমিও বলব৷’’ দলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে, তা স্বীকার করেছেন মানস ভট্টাচার্য৷ তার বক্তব্য, ‘‘দলে ১০০ শতাংশ ঐক্যমত হয়না৷ আমার সঙ্গে ওর মতপার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক৷’’

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।