ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত ছবি৷

স্টাফ রিপোর্টার, হলদিয়া: রাস্তার উপর বেআইনিভাবে বাড়ি তৈরির করার প্রতিবাদ করায় আক্রান্ত হল প্রতিবাদী যুবক।গত শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া পুরসভার ও দুর্গাচক থানার হাজরামোড়ের বাসুদেবপুর এলাকায়।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন বিকেলে প্রায় সাড়ে চারটে নাগাদ সুমিত দাস (২৬) নামের এক যুবক হলদিয়া থেকে কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিল। বাসুদেবপুরে তাঁর প্রতিবেশী ভীমচরণ দাস রাস্তার উপরে বেআইনি বাড়ি নির্মাণ করছে এবং সুমিত এই কাজের তীব্র প্রতিবাদ করায়, তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, প্রতিবাদ করতে গেলে অভিযুক্ত ভীমচরণ দাস- সহ তাঁর স্ত্রী মণিমালা দাস এবং ছেলে দেবব্রত দাস প্রতিবাদী ওই যুবক সুমিতকে রড ও কাটারি দিয়ে মাথা ও বুকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ।

এদিকে ওই যুবককে মারধর করছে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা ভীড় জমান।তবে যুবককে ওই ভাবে মারধর করতে দেখে অনেকেই এই ঘটনার প্রতিবাদ করেন বলে জানা গিয়েছে। এর পরেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এলাকা ছেঁড়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা আক্রান্ত সুমিতকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে।

বর্তমান ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে আক্রান্ত ওই প্রতিবাদী।

আক্রান্তের পরিবারের লোক অভিযোগ করে জানিয়েছেন, প্রতিবেশীর মারধোরের ফলে সুমিতের হাত ভেঙে গিয়েছে। পাশাপাশি এখনও তাঁর মাথায় রক্তক্ষরণ অব্যাহত রয়েছে বলে আক্রান্তের পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে। প্রতিবাদী ছেলেকে মারধোরের ঘটনায় সুমিতের মা সুজাতা দাস জানান, হয়তো তাঁর ছেলেকে ওরা প্রাণে মেরে ফেলতো। কিন্তু অল্পের জন্য সুমিত রক্ষা পেয়েছে। তিনি আরও বলেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুর্গাচক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সুমিতের পরিবার।

সুমিতের দিদি দীপিকা দাসের অভিযোগ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই এভাবে আক্রান্ত হতে হবে। তিনি আরও জানান পুলিশ দেবব্রত দাসকে গ্রেফতার করেছিল। কিন্তু মাত্র ২৪ ঘন্টা পরেই সে জামিনে মুক্ত পেয়ে যায়। এরপরেই সে আক্রান্তের দিদিসহ তাঁর পরিবারকে রীতিমতো প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। সুমিতের দিদি আরও বলেন, ‘তাহলে আমরা এখন কার কাছে যাব’? ‘আইনের শাসন কি নেই’? ‘তবে এখন বাড়ি থেকে বেরোতেই ভয় হচ্ছে’। ‘কিন্তু এখনও অভিযুক্ত ভীমচরণ দাস ও মণিমালা দাসকে পুলিশ গ্রেফতার করছে না কেন’? তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারকে ফোনে জানিয়েছি’।তবে এই বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। যদিও এই বিষয়ে পুলিশের দাবি, একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে দুই পরিবার। পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।

তবে প্রতিবাদ করায় আক্রান্তের ঘটনা এই প্রথম নয়। জানা গিয়েছে,এর আগে এই জেলার হলদিয়াতে বৈদ্যুতিন চ্যানেলের সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিনিধির উপর একই ঘটনা ঘটেছে।