সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : ফণী তো হল না। যা ‘হোনি’ ছিল হয়েছে। তবে ‘পুরানো সেই দিনের কথা’ ভুলে এখন কয়েকদিন ভালোই কাটবে কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গবাসীর। সৌজন্যে বিহারের ঘূর্ণাবর্তের জেরে সোমবারের কালবৈশাখী। রাতে কালবৈশাখী যেন মঙ্গলে মঙ্গলবার্তা দিয়ে গিয়েছে। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস বেলার দিকে গরম হলেও সন্ধ্যা বা রাতের দিকে ঝড় জল হবে। ফলে এখন কয়েকদিন এই স্বস্তি বজায় থাকবে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে অস্থির বাংলায় অবশেষে বৃষ্টি আসে সোমবার সন্ধ্যায়, সঙ্গে কালবৈশাখী। বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, মালদাসহ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জেলাকে স্বস্তি দিয়ে রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ কলকাতায় হাজির হয় বজ্রগর্ভ মেঘ। সেখান থেকে ঝড় বৃষ্টি। টানা ঘন্টা খানেকের বেশি সময় ধরে বৃষ্টি হয়।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘণ্টায় ৫৭ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী বয়ে যায়। মে মাসের এটাই প্রথম কালবৈশাখী। মরসুমের নবম। পূর্বাভাস বুধবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। ফলে আপাতত দিন দুয়েক তাপের দহন কম থাকবে। যদিও দিনের বেলায় ভ্যাপসা গরমের হাত থেকে নিষ্কৃতি মিলবে না। যেমন মঙ্গলবারের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিকের থেকে এক ডিগ্রি বেশি। কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে ১০.৩ মিলিমিটার।

মার্চ এপ্রিলের প্রথমদিকে পর্যন্ত ঝড় বৃষ্টি হলেও নিয়মিত আনাগোনা ছিল ঝড়-বৃষ্টির। পরে তা উধাও হয়ে যায় । ফনীর পর অবস্থা অসহনীয় হয়ে ওঠে। দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় লু বয়েছে এই কয়েকদিনে। মহানগরের ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে যায় আমজনতা। সোমবারের ঝড় বৃষ্টি কষ্ট থেকে মুক্তি দিয়েছে তা বলা যেতেই পারে।

গত ক’দিন ধরেই রাজ্যের বায়ুর পরিমণ্ডলে জলীয় বাষ্প পর্যাপ্ত তৈরি হয়, যা ফণী নিয়ে গিয়েছিল তা ফের হাজির হয়। সেটিকে ঠেলে তুলে দেয় বিহারের ঘূর্ণাবর্ত, সঙ্গ দিয়েছে উত্তর-দক্ষিণে বরাবর বিস্তৃত লম্বা নিম্নচাপ অক্ষরেখাও। ফল, বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি এবং বৃষ্টি।

প্রসঙ্গত রবিবারই দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি স্থানে স্বস্তির বৃষ্টি মিলেছিল। তার জেরে তাপমাত্রাও কমে। বন্ধ হয় লু বওয়া। সবমিলিয়ে মঙ্গলবারের সন্ধ্যার পূর্বাভাসেও স্বস্তির আশ্বাস জারি রইল।