নয়াদিল্লি: বার্ষিক সাধারণ সভা চলাকালীন দিল্লি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের দুই আধিকারিকের হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় নিন্দায় মুখর দেশের ক্রিকেট মহল। রবিবার ডিডিসিএ’র এজিএমে শাসক দলের যুগ্ম সচিবকে প্রকাশ্যে চড় মেরে বসেন বিরোধী গোষ্ঠীর এক সমর্থক। ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই আসরে নামেন প্রাক্তন দিল্লি ক্রিকেটার গৌতম গম্ভীর।

নিজের রাজ্যের ক্রিকেট সংস্থার এমন দৈন্যদশা দেখে চুপ থাকতে পারেননি পূর্ব দিল্লির বিজেপি বিধায়ক। গোটা ঘটনায় বিসিসিআই প্রেসিডেন্টের হস্তক্ষেপ চান গম্ভীর। টুইটারে ঘটনার নিন্দা করে জাতীয় দলের প্রাক্তন বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান লেখেন, ‘ডিডিসিএ ইজ অল আউট ফর আ শেমফুল ডাক।’ গম্ভীর আরও লেখেন, ‘দেখুন কীভাবে একটা প্রতিষ্ঠানকে পরিহাসের পাত্র বানিয়ে তুলছেন এরা।’ এরপর বোর্ডে সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও সচিব জয় শাহকে উদ্দেশ্য করে গম্ভীর দিল্লি ক্রিকেটের সমস্যা সমাধানের আর্জি জানান। ঘটনায় যুক্ত থাকা আধিকারিকদের আজীবন নির্বাসনে পাঠানোরও দাবি জানিয়েছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার।

এমতাবস্থায় নতুন বছরে ১৩ জানুয়ারি দিল্লি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পদে নির্বাচন। রজত শর্মার পরবর্তী ডিডিসিএ’র গুরুত্বপূর্ণ এই পদের জন্য প্রথম পছন্দ গৌতম গম্ভীরই। সংবাদসংস্থা আইএএনএস’কে দিল্লির এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘এই পদের জন্য প্রাক্তন কেকেআর অধিনায়ক ইতিমধ্যেই ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর অভিজ্ঞতা পাশাপাশি কেকেআর অধিনায়ক হিসেবে তাঁর নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ডিডিসিএ’র হারানো সম্মান ফিরিয়ে আনতে পারে।’

ওই আধিকারিকের সংযোজন, ‘নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক হিসেবে গম্ভীর দেখিয়ে দিয়েছে তিনি কতটা পারদর্শী। কেকেআরের ভাগ্য বদলে গিয়েছিলে গম্ভীরের হাত ধরেই। বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতোই ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবে তাঁর লিডারশিপ কোয়ালিটি তুলে ধরবেন গম্ভীর। এই মুহূর্তে ডিডিসিএ’র দায়িত্বভার গ্রহণের জন্য উনিই সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি।’ তবে এব্যাপারে নতুন বছরে পুনরায় তারা আলোচনায় বসবেন গম্ভীরের সঙ্গে। অর্থাৎ সব পরিকল্পনামাফিক চললে দিল্লি ক্রিকেট সংস্থার মসনদে ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনালের নায়ককে দেখলে কিন্তু অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

উল্লেখ্য, রবিবার রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার এজিএমের এমন অনভিপ্রেত ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রাক্তন ক্রিকেটার মদন লালও। টুইট করে তিনি লেখেন, দিল্লি ক্রিকেট এখন গুন্ডাদের হাতে। প্রার্থনা করছি ভালো কিছুর জন্য যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটার যারা দিল্লির হয়ে খেলতে চায়, তাদের ভবিষ্যৎ যেন সুরক্ষিত থাকে।’