শংকর দাস, বালুরঘাট: পুজো মানেই কাশফুল, পুজো মানেই ঢাক৷ ঢাকে কাঠি পড়তেই মন যেন বলে দেয় পুজো হাজির৷ তবে বাংলার অন্যতম বাদ্যযন্ত্রের মধ্যেও পড়ে এই ঢাক৷ যেখানে ঢাককে কেন্দ্র করে বাংলায় কতই না প্রবাদ রয়েছে৷ যে প্রবাদে খুব সহজেই ঢাককে কেন্দ্রবিন্দু করে বলে ফেলা যায় অনেক কথা৷ যেমন, ‘ধর্মের ঢাক আপনিই বাজে’, ‘নিজের ঢাক নিজেই পেটায়’ সহ আরও অনেক কথা৷

ঢাক নিয়ে প্রবাদের প্রচলন আজও টিকে থাকলেও, বাস্তবে যারা এই ঢাক বাজিয়ে পুজো পার্বণ ও উৎসবকে প্রাণবন্ত করেন, তাঁরা কিন্তু মোটেও আজ আর এই পেশায় সচ্ছল নন৷ তাদের দাবি, একমাত্র পুজোর সময় ছাড়া ঢাকিদের কোনও কদর নেই৷ যে কারণে বর্তমান প্রজন্ম এমনকি খোদ ঢাকিদের পরিবারের ছেলেরাও কেউ আর তাতে আগ্রহ দেখান না। ফলে ঢাক ও ঢাকিদের সংখ্যা দিন কে দিন কমেই চলেছে। হারিয়ে যেতে বসা ঢাক ও ঢাকিদের সম্মান জানাতে দেবীপক্ষের সূচনায় সোমবার অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে বালুরঘাটের শিল্পী-মহল।

বালুরঘাট হাই স্কুল মাঠে এদিন ঢাক বাজানোর প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। নাচ, গান সহ সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত শিল্পীদের নিয়ে ‘সৃজন-কথা’ নামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়৷ এই প্রতিযোগিতায় বালুরঘাট ও তার আশেপাশের এলাকার ঢাকিরা অংশ নেন৷ তাঁদের হাতের যাদুকাঠির ছোঁয়ায় ঢাকের মরা চামড়া থেকে উৎপন্ন বোলে এদিন শরতের আকাশকে মুখরিত করে তোলেন তাঁরা৷

প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনে খুশি ঢাকিরাও। অংশগ্রহণকারী ঢাকি প্রদীপ মালী বলেছেন, ‘‘ঢাকে কাঠি দিয়ে বোল তোলার নেশায় এখনও এই পেশাকে টিকিয়ে রেখেছি।’’ তিনি আরও জানিয়েছেন, পুজোর ক’টা দিন বাদে অন্য সময়ে তাঁদের কেউ রিকশা চালান বা অন্য কোনও কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। ঢাকের তালে কোমর নাচালেও এখনকার ছেলেরা কেউ আর ঢাকি হতে চান না। কারণ ঢাকিরা সেভাবে শিল্পীর মর্যাদা পায় না। এই পরিস্থিতিতে ‘সৃজন-কথা’-র এই উদ্যোগ খুবই কার্যকরী বলেও তিনি জানিয়েছেন৷

‘সৃজন-কথা’-র তরফে রীণা সিংহ রায় বলেছেন, ‘‘এদিনের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্যই হল ঢাকিদের পেশা তথা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা৷ ডিজিটাল মিডিয়ার দৌড়ে ঢাক বাজানোর পেশা থেকে অনেকেই সরে গিয়েছেন৷ ঢাকের বোল আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে৷ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ঢাকিদের উৎসাহ বৃদ্ধি ও তাঁদের সম্মানিত করাই ছিল এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য৷’’ পাশাপাশি বালুরঘাটের সাংসদ অর্পিতা ঘোষের অনুপ্রেরণাতেই এই ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন বলেও তিনি জানিয়েছেন৷