স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: পারিবারিক বিবাদের জেরে ২ বছরের শিশুকে খুনের অভিযোগ উঠল কাকা-কাকির বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ৩০ হাজার টাকার সোনার গয়না নিয়ে বিবাদের জেরে ঐ শিশু পুত্রকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় মালদহ জেলার মানিকচক থানার নাজিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বেগমগঞ্জ গ্রামে।

ঘটনার পর ঐ শিশুর মা মানিকচক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মৃতের কাকা ও কাকিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। তাদের গ্রেফতার করা হতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এব্যাপারে মালদহের পুলিস সুপার অলোক রাজোরিয়া বলেন, ”মানিকচকে এক শিশুকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ জমা পড়েছে। রাজেশ ও অর্চনা মণ্ডল নামে দুই অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। দু’জনের নামে মৃত শিশুর মা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।”

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শিশুর নাম আদর্শ মণ্ডল (২)। বেগমগঞ্জ গ্রামেই তার বাড়ি। আদর্শর বাবা নির্মল মণ্ডল দিল্লিতে শ্রমিকের কাজ করেন। মৃতের এক জেঠুও সেখানে কর্মরত। অন্যদিকে, নির্মলের ভাই রাজেশ ও অর্চনার সঙ্গে একই বাড়িতে নির্মলের স্ত্রী সমিতা থাকতেন। বাড়ি এক হলেও তাঁরা পৃথক থাকতেন। নির্মল এবং সমিতার এক ছেলে ও এক মেয়ে।

মণ্ডল দম্পতির মেয়ের বয়স চার বছর। সে বিশেষভাবে সক্ষম। আদর্শ ছোট। দুই সন্তানকে নিয়ে সমিতাদেবী থাকতেন। তাঁদের পরিবারে দীর্ঘদিন ধরেই গণ্ডগোল হচ্ছিল। সম্প্রতি সোনা বিক্রি নিয়ে বিবাদ চরমে পৌঁছয়। ওই সোনা নির্মল বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ। তা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিবাদ বাঁধে। বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়ায় এর আগে দুই পক্ষ একে অপরের সঙ্গে হাতাহাতিতেও জড়িয়েছে।

জানা গিয়েছে, এদিন সকালে বাড়িতে ছেলে ও মেয়েকে রেখে সমিতা ঘাস কাটার জন্য মাঠে যান। দুপুরে তিনি বাড়ি ফেরেন। বাড়ি ফিরে ছেলেকে নিথর অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। ছেলের গলা এবং গালে কালসিটার এবং লালচে দাগ দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। তারপর মৃতের মা মানিকচক থানায় দেওর এবং জায়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তদের আটক করে।

এই বিষয়ে সমিতাদেবী বলেন, ”আমার স্বামীর কাছে কিছু সোনা ছিল। কয়েকমাস আগে সে তা বিক্রি করে ৩০ হাজার টাকা পায়। সোনা বিক্রির পর থেকেই দেওর, ভাশুর এবং জা আমাদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। ওই সোনা পারিবারিক এবং তাতে তাদেরও ভাগ রয়েছে বলে তারা দাবি করতে থাকে। দিল্লিতে আমার স্বামীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ভাশুরের একপ্রস্থ ঝামেলাও হয়।

কিছুদিন আগে বাড়ি ফিরে ভাশুর আমাকে মারধর করে। তারপর থেকে প্রায়ই প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিত। এদিন সকালে ঘাস কাটতে মাঠে যাই। পরে বাড়িতে ঢুকে দেখি দেওর এবং জা আমার ছেলেকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে। থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।” যদিও এই বিষয়ে রাজেশ ও অর্চনা পুলিশকে জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। শিশুর মৃত্যুর ব্যাপারে তাদের কিছু জানা নেই।