স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বারাসতে বসে আছেন এক গুজরাটি ব্যবসায়ী৷ তিনি জেলা জেলা বিজেপি নেতাদের সহায়তায় দেদার টাকা ছড়াচ্ছেন৷ শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নাকি বারাসত থেকে গুজরাটিদের বেরিয়ে যেতে বলেছেন – অভিযোগ করেছে বিজেপি৷ রাজ্য বিজেপির নির্বাচনী ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য শিশির বাজোরিয়া সোমবার রাতেই ট্যুইট করে অভিযোগ জানান৷ পরবর্তীকালে জানা যায় পরিস্থিতি সপ্তমে চড়েছে৷ তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে গুজরাট থেকে আগত এক ব্যবসায়ী রিদ্ধিম প্যাটেল স্থানীয় এক বিজেপি নেত্রীর সহযোগে বারাসতে টাকা বিলি করছেন৷ ভোট কেনা এবং অস্ত্র ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিচ্ছেন৷

সোমবার রাতে বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং রাজ্য বিজেপির সহ পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন আক্রান্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগ এনেছে গেরুয়া শিবির৷ অভিযোগ মেননের গাড়ি সহ আরও ৫টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়৷ ওই গাড়িগুলিতে টাকা এবং অস্ত্র ছিল৷ যদি মেননের গাড়ি থেকে কিছুই পাওয়া যায়নি৷ তৃণমূলের সমর্থকরা অরবিন্দ মেননের গাড়ি ঘিরে যখন বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন তখন পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বারাসত থানায় নিয়ে আসে৷

আরও পড়ুন : আক্রান্ত বিজেপির বুথ এজেন্টের পরিবার, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ

তিন ঘন্টা পর রাজ্যের অপর বিজেপি পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় তাকে দোলতলা পুলিশ লাইন থেকে নিজের গাড়িতে তুলে নেন৷ বারাসত থানা পর্যন্ত কেন যেতে পারলেন না কৈলাস? স্থানীয় সূত্রের খবর, তৃণমূলের সমর্থকরা কৈলাসের গাড়ি আক্রমণ করতে পারত৷ সেই আশঙ্কায় তাঁকে বারাসত থানা পর্যন্ত আসতে দেওয়া হয়নি৷

স্থানীয় সূত্রের খবর, ঘটনার সূত্রপাত হয় বারাসতের একটি হোটেল থেকে। বারাসাতে টাকী রোডে উপর এই হোটেলে বিজেপির একটি নির্বাচন সংক্রান্ত বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে পুলিশের হানা দেয়৷ পরে সেই মিটিং হয় বারাসত পুরসভার সামনে৷ বারাসতের বিজেপি নেতা তুহিন মণ্ডলের বাড়িতেই ওই মিটিং হতে দেখা যায়৷ যা থবর, এলাকায় অচেনা মানুষের জড়ো হয়েছে দেখে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব৷ তারপরেই শুরু হয় বিক্ষোভ৷ পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে৷ ওই বৈঠকে অরবিন্দ মেননও উপস্থিত ছিলেন৷ রাস্তার ধারে যে গাড়িগুলি দাঁড়ানো ছিল তা ভাঙচুর করা হয়৷

আরও পড়ুন : ভোটকেন্দ্রের চারপাশে বন্ধ রাখতে হবে ক্লাব, শেষ দফায় নির্দেশ কমিশনের

পুলিশ মেনন এবং বিজেপির স্থানীয় নেতা তুহিন মণ্ডল অবং প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্ধার করে বারাসত থানায় নিয়ে আশে৷ তুহিনের বাড়ি ততক্ষণে ভাঙচুর করা হয়েছে৷ ইতিমধ্যেই বারাসাত থানায় তৃনমূল কংগ্রেসের বারাসত কেন্দ্রের প্রার্থী কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। বিজেপি দাবি করে থানার সামনে বিজেপির বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়েছে৷

কাকলি ঘোষ দস্তিদার অভিযোগ করেন, দুদিন ধরেই বিজেপির লোক জন দু হাজার টাকার তোরা-তোরা নোট বিলি করছে৷ নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে৷ কমিশন দেখেছে৷ ব্যবস্থা নিচ্ছে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সারা রাত কর্মীদের সজাগ থাকতে বলেছেন এই বৃষ্টিতেও কর্মীরা সজাগ৷ কিছু অবাঙালী লোক হোটেল থেকে টাকা বিলি করছে৷ বারাসতে ওরা শান্তিতে ভোট হতে দেবে না৷

ইতিমধ্যে অভিযোগ ওঠে থানার সামনে বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তাপস মিত্র কে পুলিশের সামনে তৃণমূল কর্মীরা মারধোর করে। রাত একটার পরে মুকুল রায় থানা আসেন। থানা থেকে বেরিয়ে এসে তিনি জানান , অভিযোগের কোনও প্রমাণ নেই৷ তৃণমূল হারার ভয় পাচ্ছে । তাই অহেতুক ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়াচ্ছে। গুজরাত বা বাইরের রাজ্য থেকে কেন কেউ ঢুকতে পারবে না প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন ভারতের যেকোনো প্রান্তে যে কেউ যেতে পারেন৷ কিন্তু বারাসাত ও উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা. আসতে পারেন না৷ বারাসতে সন্ত্রাস চলছে৷ মুকুল রায় জানান , নির্বাচন কমিশনের কাছে বিষয়টি জানিয়ে বারাসাত থানার আই সি ও জেলার পুলিশ সুপারের অপসারণ চাওয়া হবে৷