সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : গত বছরে রানু মণ্ডলকে দিয়ে দুর্গা মণ্ডপের থিম সং গাইয়ে চমকে দিয়েছিল অর্জুনপুর। এবার নয়া চমক দেবে বেলগাছিয়া সাধারণ দুর্গোৎসব।

মণ্ডপের আবহ সঙ্গীত হিসাবে বাজবে এক ভিখারি বাঁশিওয়ালার সুর। উদ্যোক্তাদের ভাবনা এই বাঁশির সুর যেমন একদিকে বর্তমান পরিস্থিতির বার্তা দেবে পাশাপাশি এক ভিখারির প্রতিভাকেও জনসমক্ষে তুলে আনবে।

অর্জুনপুর রানু মণ্ডলকে দিয়ে গান রেকর্ড করিয়েছিল। সেখানে কারিকুরির অনেক জায়গা ছিল। করাও হয়েছিল, কিন্তু এখানে একদম লাইভ বাঁশি বাজাবেন শিল্পী মিহির পানুয়া, যিনি আদতে রাস্তায় এই বাঁশি বাজিয়ে ভিক্ষা করেন। করুণ সুরে আনন্দময়ীকে জানাবেন বাংলার মানুষের বিভিন্ন তাণ্ডব জর্জরিত হয়ে যাওয়ার কথা। কাকদ্বীপের শিল্পী মিহির পানুয়া। কলকাতার রাস্তায় বাঁশি বাজিয়ে ভিক্ষে করেন। এবারের পুজোটা ওঁর কাছে হতে চলেছে প্রাপ্তির পুজো।

মিহির জানালেন , ‘এই বছরে রাজ্যের মানুষ এত জিনিস খুইয়েছে যা তার হিসাব নেই, অনেকক্ষেত্রে তার ক্ষতিপূরণ হওয়াও সম্ভব নয়। অন্য বছর আমি থাকি রাস্তায়। অন্য সবাই থাকে আনন্দে মেতে। কি অদ্ভুত দেখুন, মানুষের দুঃখ কষ্ট শোনবার জন্য মা আমাকেই বেছে নিলেন।

আমার এটা সম্মান, সবার অনেক খোয়ানোর মাঝে আমার প্রাপ্তির পুজো। ভালো লাগছে কিন্তু আনন্দ মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিলে বাড়ে। সেটাই হবে না। মানুষ থাকবে দূরে দূরে। ভাগ করবো কার সঙ্গে। আমার আনন্দের কথা শোনাতেও ভালো লাগবে না। তাই মানুষের ও আমার এতদিনের কষ্টের কথা বাঁশির সুরের মাধ্যমে মায়ের কাছে শোনাবো। এত খারাপের মাঝে যদি কিছু ভালো হয়, তিনিই করবেন।’

পুজো কমিটির অন্যতম যুগ্ম সচিব জয়দীপ সাহা বলেন, ‘করোনা এবং আমফানের ভয়াবহতার ওপর ভিত্তি করেই তৈরি হচ্ছে এবারের থিম মিউজিক। যার একটি অংশ বাজাবেন মিহির পানুয়া। মণ্ডপের মধ্যেই তাঁর বাজানোর জন্য আলাদা একটা জায়গা তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।

পাশ দিয়ে গেলেই শোনা যাবে বাঁশির সুর।’ ক্লাব কর্তা জয়দীপ সাহাই উল্টোডাঙার কাছে মিহির পানুয়াকে দেখেছিলেন। লকডাউনে বাঁশি বাজিয়েই ভিক্ষা করছিলেন। এ কথা সে কথায় জানতে পারেন, চাষ করে দিন গুজরান করতেন মেঠো মানুষটি। সঙ্গে বাজাতেন ভালোবাসার বাঁশি। সুর বেরোত সুখের।

তারপর এল করোনা। হানা দিল ভয়াল আমফান। সব গেল। কলকাতায় রাস্তায় রাস্তায় সেই বাঁশি বাজানো শুরু মিহির পানুয়ার। তখন আর সুখের সুর বেরোয় না বাঁশি থেকে। মেঠো বাঁশি করুন সুরে তাঁর দুঃখের কথা বলে।

এরপরেই কমিটির কাছে তাঁর ওই প্রস্তাব রাখেন যে মণ্ডপে বাঁশি বাজাবেন এই ভিখারি। সম্মতি দেন সবাই। সুর এবং জয়দীপবাবুর থেকে মিহিরের কথা শুনে সবাই তাঁর পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। ঠিক করা হয় থিম মিউজিকের সঙ্গে তাঁকে যুক্ত করা হবে। এবং লোকে যাতে তাঁকে দেখতেও পায় সেই ব্যবস্থাও করা হবে। মণ্ডপ শিল্পীকে বিষয়টা জানাতে তিনিও মিহিরের জন্য আলাদা স্থান করে দেবেন বলে জানান। এবার সময়ের অপেক্ষা।

৭৩তম দুর্গোৎসবে বেলগাছিয়া সাধারণ দুর্গোৎসবের পুজোর থিম ‘‌আবদ্ধ’‌। সেই অনুযায়ী শুরু হয়ে গিয়েছে কাজ। ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে মণ্ডপ। মণ্ডপের এক কোনে দাঁড়িয়ে মিহির বাঁশি বাজাবেন। আশা, মিহি সুরে আনন্দময়ী মোহিত হয়ে হয়তো বলে উঠবেন ‘তোদের মঙ্গল হোক’।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।