ব্যাংকক: উত্তাল সাগরের বুকে একরত্তি ছানাটা ভাসছিল৷ ও কি বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে ? কে জানে৷ কারণ ওর ভাষা বোঝার ক্ষমতা নেই মানুষের৷ তবু ছানাটাকে একলা সাঁতার কাটতে দেখে একটু চমকে যান কয়েকজন৷ উপকূলের কাছে এমন তো দেখা যায়না ওদের৷ তড়িঘড়ি খবর গেল উদ্ধারকারীদের কাছে৷ তারপর সাগর জলে ভাসতে থাকা নাদুস নুদুস ডুগংটাকে নিয়ে শুরু হল হই হই কাণ্ড৷

থাই সংবাদ মাধ্যম ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিন জানাচ্ছে, এই ছানা ডুগংটি মেয়ে৷ তার বাবা-মায়ের খোঁজ তো মেলেনি৷ থাইল্যান্ডের দক্ষিণে কার্বি প্রদেশ সংলগ্ন উপকূলে ও একলাই ভেসে চলছিল৷ জলে নেমে তাকে ধরতে পারেন উদ্ধারকারীরা৷ কোনওরকমে ওকে আঁকড়ে ধরে তীরে আনা হয়৷ জলের তলার সেই দৃশ্য দেখে বিশ্ববাসী বিস্মিত৷ ছবি হয়েছে ভাইরাল৷

ডুগং হল একটি সামুদ্রিক প্রাণী৷ এর বাংলা নাম সমুদ্রধেনু৷ আর মালয় ভাষায় এর নামের অর্থ ‘সমুদ্রের ভদ্রমহিলা’৷ বিলুপ্তপ্রায় সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকায় এরা পড়ে। ভারত মহাসাগর অঞ্চল থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম অংশ পর্যন্ত অঞ্চলে এদের দেখা মেলে। নিরীহ প্রকৃতির থলথলে এই প্রাণীটি শাকাহারি৷ সবথেকে বেশি ডুগং থাকে অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রে, মান্নার উপসাগর এবং ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে অবস্থিত পক প্রণালীতে৷ এরা দিনে ২৫-৩০ কেজি সামুদ্রিক ঘাস খেতে পারে।

উদ্ধার হওয়া ডুগংটি বাচ্চা৷ তার রক্ষণা বেক্ষণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷ এমনই জানিয়েছে থাইলান্ডস ডিপার্টমেন্ট অফ মেরিন অ্যান্ড কোস্টাল রেসকিউ (Thailand’s Department of Marine and Coastal Resources)৷ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বর্তমানে এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, যার প্রধান কারণ হল এদের বাসস্থান নষ্ট হয়ে যাওয়া।

অত্যধিক নৌকো চলাচল, কৃষিক্ষেত্র থেকে বিষাক্ত কীটনাশক সমুদ্রের জলে মেশা, উপগ্রহের সাহায্যে এই ঘাসের উৎসস্থল গুলি চিহ্নিত করার চেষ্টা হচ্ছে। ভারত মহাসাগর, আন্দামান ও নিকোবর, শ্রীলঙ্কার উপকূল ইত্যাদি অঞ্চলে অত্যধিক মাছ ধরাও এদের পক্ষে ক্ষতিকর হচ্ছে। কচ্ছ উপসাগরে ডুগং–এর তেল নৌকা সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। এদের মাংসেরও ওষধি গুণ আছে বলে বিশ্বাস। এদের জন্মহার কম হওয়া এদের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার আরেকটি কারণ। ডুগংদের বাচ্চা হয় প্রতি সাত বছর অন্তর অন্তর৷ যে কারণে এক একটি বাচ্চা এত মূল্যবান৷

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা