ছবি-মিতুল দাস

সুভীক কুন্ডু: বন্ধুরা তাকে ডাকে ‘কলকাতার বচ্চন’৷ সেই ট্রেডমার্ক দাড়ি, সেই হাঁটাচলা৷ সেই স্টাইলিশ লুক আর মাঝে মাঝে বচ্চন টাইপ ডায়লগ৷ কলকাতার সেই বচ্চনই এবার বার্তা দিচ্ছেন ‘গাছ লাগান প্রাণ বাঁচান৷’৷ তাও অভিনব কায়দায়-নিজেরই অটোর ছাদে তিনি বানিয়েছেন প্রতীকী ফুটবল মাঠ!

ন’টা-আটটার ডেলি ডিউটি৷ প্রাণের একমাত্র সঙ্গী অটো নিয়ে গণেশ টকিজ টু ফুলবাগান চষে বেড়ান বিজয় পাল৷ মহানগর যখন রাতের আলোয় মায়াবী হয়ে ওঠে, তখন বিজয়ের অটোর ছাদ যেন মিনি স্টেডিয়াম৷ টুনি দিয়ে সাজানো সেই মাঠের জৌলুস বাড়াতে সবুজ ঘাসের মাঝে একটা বলও রেখেছেন বিজয়৷ যাত্রীদেরও মন কাড়ছে এই অটো৷

বিজয় শোনালেন, ‘প্রয়াসটা মাসখানেকের৷ এর মধ্যেই সাড়া মিলছে৷ সবার চোখ কাড়ে এই অটো৷ অনেক যাত্রীই অটোয় ওঠার সময় চমকে যান৷ ছাদটা একবার অন্তত চোখ বোলান৷ তাঁদের মনে গাছ লাগানোর বার্তার পৌঁছে দিতে পেরেই খুশি৷’

ছবি-মিতুল দাস

এটাই প্রথম বার নয়, এর আগেও অটো চালক বিজয়ের কীর্তি চোখ কেড়েছে৷ ছোটবেলা থেকেই অমিতাভকে গুরু বলে মানেন৷ বিগ বি-র অগুন্তি ভক্তের মতো এই বিজয়ও টাকা বাঁচিয়ে অমিতাভ বচ্চনের অনেক সিনেমার দেখেছেন৷ কিন্তু এই বিজয়ের বচ্চন ‘পাগলামো’ আর পাঁচজনের চেয়ে অনেক বেশি৷

অমিতাভের ‘ইয়ারানা’ সিনেমার সেই বিখ্যাত গানের দৃশ্য দেখে ছোটবেলায় শখ হয়েছিল টুনি বাল্ব দেওয়া জামা পড়বেন৷ অর্থের অভাবে শখ পূরণ হয়নি৷ পরে অটো চালিয়ে রোজগেরে হয়ে কালো রঙের জামায় টুনি বসিয়েছেন, রয়েছে টুনিওয়ালা প্যান্টও৷ গগলসেও টুনি৷ স্বাদের এই জামা পড়ে শেষ কয়েকবছর পুজোয় গণেশ টকিজ থেকে ফুলবাগান চষে বেড়িয়েছিলেন৷ পুলিশের তাড়াও খেতে হয়েছে বেশ কয়েকবার৷

ছবি-মিতুল দাস

স্মৃতির পাতায় ফিরে গিয়ে বিজয় জানালেন, ‘এই পাগলামিটা শুরু ২০১৬ সালে৷ সেবার পুজোয় বচ্চনের স্টাইলে টুনিওয়ালা জামা প্যান্ট পরে অটো চালিয়েছিলাম৷ পথ চলতি লোকে ধাঁধায় পড়ে যেত৷’ সঙ্গে জুড়লেন, ‘একবার পুলিশের তাড়াও খেলেছি৷ পুলিশ বলে, এই জামা পরে অটো চালালে ভিড় বাড়ছে, লোক জড়ো হচ্ছে বেশি৷ এমনকি আমার টুনিওয়ালা জামা দেখে অন্য গাড়ির চালকদের গাড়ি চালানোর সময় চোখ ধাঁধিয়ে যেতে পারে বলেও পুলিশ বাধা দিয়েছিল৷ এবার পুজোর আগে আর লাইটের জামা নয়, বরং প্রিয় অটোকে নতুন করে সাজালাম৷’ তবে কালীপুজোয় ফের বচ্চনের সেই সাজে অটো চালাতে দেখা যাবে বিজয়কে৷

ছবি-মিতুল দাস

সবুজের বার্তা দেওয়া,অটোর উপরে ফুটবলের ক্ষুদে মাঠ তৈরি করার পরেও আরও একটা শখ রয়েছে ‘বচ্চন’ বিজয়ের৷ নিজের অটোতে একবার শাহেনশা অমিতাভকে বসাতে চান৷ বিজয় তাই বলছেন, ‘এই অটোই আমার রুচি-রুজি৷ এই অটোতেই সিনিয়র বচ্চনকে দু’বার রাইড করাব৷ প্রথমটায় আমি সামনে বসব উনি পিছনে৷ আর দ্বিতীয় বারটা আমি পিছনে আর উনি সামনে৷ কেমন হবে বলুন তো৷’

শখ কি সবার পূরণ হয় ? যদি হয় তাহলে বিজয়-কে আর পায় কে৷ যেমন গুরু তার তেমন চ্যালা৷