স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কাটমানি অস্বস্তি ঠেকাতে এবার আসরে নামল তৃণমূল ভবন। দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিবৃতি দিয়ে জানালেন, ১৮ জুন দলীয় কর্মীদের প্রতি তৃণমূল নেত্রীর নির্দেশ বিকৃত করছে সংবাদ মাধ্যমের একাংশ। দলের সব নেতাকে কখনই দুর্নীতিগ্রস্ত বলেননি মুখ্যমন্ত্রী। এটা বিরোধীদের অপপ্রচার।

রবিবার বিবৃতিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সনের বক্তব্য নিয়ে সংবাদমাধ্যমের একাংশ ভুল ব্যাখ্যা করছে। তাঁর দাবি, ‘মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য বিকৃত করছে মিডিয়ার একাংশ। দলে ৯৯.৯৯ শতাংশ নেতাই সত্‍ ও পরিশ্রমী। তাঁরা উন্নয়নের সুফল মানুষের কাছে পৌছে দিতে বদ্ধপরিকর। অন্য দল থেকে আসা কিছু লোক এখন তৃণমূলকে কালিমালিপ্ত করছে। তাঁরাই শুধু দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত। পঞ্চায়েত-পুরসভার মুষ্টিমেয় কিছু লোক বিজেপিতে গেছে। তাঁদের উদ্দেশ্য অসত্‍ এবং কায়েমি স্বার্থ আছে। কিন্তু কেউ অপরাধ করে পার পাবে না’।

পড়ুন:   আমডাঙায় নিহত দলীয় কর্মী আকবরের বাড়িতে বিজেপির প্রতিনিধি দল

সম্প্রতি নজরুল মঞ্চে কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো সাফ জানিয়ে দেন, সাধারণ মানুষের টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে৷ মমতার কথায়, কন্যাশ্রী থেকে সবুজসাথী—সব প্রকল্প থেকেই অনেকে কাটমানি খাচ্ছে। এমনকী মৃতদেহ সৎকারের সমব্যথী প্রকল্পের ২০০০ টাকা থেকেও ২০০ টাকা কেটে নিচ্ছে অনেকে। গত শুক্রবার বৈঠকেও নদিয়া জেলা নেতৃত্বকে মমতা বলেছিলেন, এবার কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ পেলে তিনি নিজে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেবেন৷ তৃণমূলনেত্রীর নির্দেশের পর থেকেই জেলায় জেলায় ‘তোলা’-র টাকা ফেরৎ পাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে৷ কাটমানি-কে ইস্যুকে শাসক দলের বিরুদ্ধে আসরে নেমে পড়েছে বিরোধীরাও৷

পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আম-জনতার মধ্যে নিজের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রাখতেই এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন। বোঝাতে চেয়েছিলেন, দুর্নীতির ব্যাপারে তিনি সবসময় আপোসহীন। কিন্তু সেটা দলের ক্ষেত্রে ব্যুমেরাং হতেই বাধ্য হয়ে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামানো হল পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে।