ক্যান্সার মারণ ব্যাধির অন্যতম এক নাম। তিন অক্ষরের এই শব্দের নাম শুনলে ত্রাসের সৃষ্টি হয় মানুষের মনে। আগে ভাবা হত মারণ এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধলে নিস্তারের উপায় নেই। কিন্তু বিজ্ঞানীদের গবেষণা এবং একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, ক্যান্সার প্রতিরোধের উপায় আছে বৈকি। সহজ কিছু জীবনাচার অনুসরণ করে ক্যান্সার-ঝুঁকি কমাতে পারেন আপনিও। ক্যান্সার প্রতিরোধে আপনি নিতে পারেন কিছু পদক্ষেপ। সুতরাং বিশ্ব ক্যান্সার দিবসের আগে শপথ নিন এই রোগের বিরুদ্ধে আপনিও হয়ে উঠবেন একজন সুসচেতন নাগরিক। তাহলে আসুন জেনে নিন ক্যান্সার প্রতিরোধের সাতটি উপায়। যা আপনার ক্যান্সার ছাড়াও নানা দুরারোগ্য ব্যাধির মোকাবিলায় সহায়ক হয়ে উঠবে।

১ ছাড়ুন ধূমপান:- ধূমপানের সঙ্গে ক্যান্সারের সম্পর্ক অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত। বিশ্বে যতধরনের ক্যান্সার আছে তারমধ্যে ৯০ শতাংশ ক্যান্সারই ধূমপানের কারণে হয়। এমনটাই জানাছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। প্রতিদিন ধূমপানের ফলে ধীরে ধীরে শরীরে বাসা বাধে ক্যান্সার। এবং এটি দেহের যে সমস্ত অংশে সব থেকে বেশি আক্রমন করে সেগুলি হল, ফুসফুস। এছাড়াও,এটি খাদ্যনালী স্বরযন্ত্র মুখ-গহ্বর, গলা, কিডনি, মূত্রথলি, অগ্ন্যাশয়, পাকস্থলী এমনকি জরায়ুমুখেও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। আমেরিকান ক্যান্সার-বিশেষজ্ঞ রিচার্ড ডেল ও রিচার্ড পেটোর মতে, মানবদেহে যত ধরনের ক্যান্সার হতে পারে তার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধূমপান ও তামাকের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে।

শুধু তাই নয়, গবেষণায় আরও জানাছে যে, ধূমপান শুধু নিজের শরীরেরই ক্ষতিসাধন করে না। ধূমপানের ফলে আপনার মুখ থেকে নির্গত ধোঁয়া পাশের লোকের স্বাস্থ্যের পক্ষেও ক্ষতিকারক। কারণ, আপনার ত্যাগ করা ধোঁয়া অন্যের শরীরে গেলে তার দেহেও বাঁধতে পারে ক্যান্সারের বাসা। সুতরাং এখনই সচেতন হোন। এবং পুরোপুরি ত্যাগ করে ফেলুন ধূমপানের অভ্যাস।

২ সূর্যের আলো থেকে রক্ষা করুন ত্বককে :- আমরা জানি সরাসরি সূর্যের আলো দেহে পড়লে শরীরে ভিটামিন ডি-য়ের সঞ্চার হয়। এবং মেলানিনের সৃষ্টি হয় যা আমাদের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। কিন্তু সূর্যের তাপ নির্গত অতিবেগুনী রশ্মি আমাদের স্বাথ্য এবং ত্বকের উপর মারাত্বক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। যা থেকে হয় স্কিন ক্যান্সার। সুতরাং সূর্যের তাপ থেকে শরীরকে বাঁচিয়ে চলুন। সানবাথ এবং সান বেডের ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। বাড়ি থেকে বাইরে বেরোনোর আগে অবশ্যই ত্বকের পরিমিত যত্ন নিতে ভুলবেন না। এছাড়াও আপনার মুঠো ফোন থেকে নির্গত রেডিয়েশন ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। সুতরাং মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন হোন।

৩ স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহনের অভ্যাস করুন:- শরীরের নানা রোগের পিছনে খাদ্যভাসের প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে। অনিয়মিত খাওয়া দাওয়া জীবনে বড়সড় বিপদ ঘনিয়ে আনে অনেক সময়। প্রচুর পরিমানে সবুজ শাকসবজি এবং মরশুমি ফল খান। দেখবেন কেমন তরতাজা রয়েছেন আপনি। এছাড়াও খাদ্য তালিকায় রাখুন আঁশ জাতীয় খাবার, দানা শস্য। এবং এড়িয়ে চলুন খাসির মাংস খাওয়া। খেলেও তা মাসে একদিন খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া মদ্যপানের নেশা থাকলে তা সপ্তাহে একবার করা যেতে পারে।

৪ সহবাস করুন সুরক্ষিত উপায়ে:- অবাঞ্চিত যৌন সংসর্গেও ছড়াতে পারে ক্যান্সার। সুতরাং সুরক্ষিত উপায়ে সহবাস করুন।
অবাঞ্চিত যৌন সংসর্গে হতে পারে লিভারের ক্যান্সার।

৫ প্রতিদিন ব্যায়াম করুন:- ব্যায়াম ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। কারণ, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন-দেখা গিয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁরা সুস্থ জীবনাচারী। এছাড়াও নিয়মিত ব্যায়ামে শরীরের হরমোন প্রবাহ, কোষবৃদ্ধির হার, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা থাকে স্বাভাবিক। সেইসঙ্গে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। সুতরাং প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শরীর চর্চার পিছনে সময় দিন।

৬ রান্না করুন অল্প আঁচে:- সবসময় কম আঁচে খাবার রান্না করুন। কারণ, উচ্চ আমিষযুক্ত খাবার যেমন মাছ মাংস ইত্যাদি অতিরিক্ত তাপে রান্না করলে খাবারে দুটি রাসায়নিক উপাদান (এইচসিএ ও পিএএইচ) সৃষ্টি হয়। মনে করা হচ্ছে যে, এগুলো ক্যান্সারের কারণ। গবেষকরা বলেন, এর পাশাপাশি যারা অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া জাতীয় খাবারে অভ্যস্ত তাঁদের অধিকাংশের অগ্ন্যাশয়, কোলোরেক্টাল ও প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে।

৭ জানুন পরিবারের মেডিকেল হিস্টোরি:- ক্যান্সারের লক্ষণ সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য পেতে আপনার পারিবারিক চিকিৎসকের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন। এছাড়াও পরিবারের সদস্যদের পুরনো কোনও রোগ আছে কিনা সেই সম্বন্ধে আগে জানুন। প্রতিমাসে অন্তত একবার হেলথ চেকআপ করান। এছাড়াও বিভিন্ন ভাইরাস ঘটিত রোগের হাত থেকে বাঁচতে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে টিকা গ্রহন করুন।