নয়াদিল্লি: সার্ভিস রিভলভার থেকে গুলি করে আত্মঘাতী হলেন জওয়ান৷ সহকর্মীদের খুন করে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন উর্দিধারী৷ এমন খবর মাঝেমধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায় সংবাদমাধ্যমে৷ এগুলি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়৷ দেশের নিরাপত্তার ভার যাদের হাতে তাদের মধ্যে আত্মহত্যার গ্রাফ উর্ধ্বমুখী৷ উর্দিধারীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক৷ আত্মহত্যা ঠেকাতে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ৷

এই সব পদক্ষেপে কিছুটা হলেও যে কাজ হয়েছে তার প্রমাণ মিলেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সাম্প্রতিক রিপোর্টে৷ রিপোর্ট বলছে ২০১৮ সালে ৯৬ জন সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স বা সিএপিএফ আত্মঘাতী হয়েছেন৷ এখানে বলে রাখা ভালো ২০১৬ সালে সংখ্যাটি ছিল ৯০৷ তার পরের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে এই সংখ্যাটি বেড়ে হয় ১২১৷ সেই তুলনায় ২০১৮ সালে উর্দিধারীদের মধ্যে আত্মঘাতী হওয়ার প্রবণতা কিছুটা হলেও কমেছে৷

রিপোর্টে আত্মহত্যার কারণ নিয়ে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি৷ শুধু উল্লেখ করা হয়েছে নানা কারণে আত্মঘাতী হয়েছেন ৯৬ জন৷ ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই সব পেশায় কাজের চাপ থাকে মারাত্মক৷ অনেক ক্ষেত্রে সেই চাপ নিতে না পারার জন্য মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেন তারা৷ আবার কাজের তাগিদে পরিবার ও প্রিয়জনদের থেকে দূরে থাকতে হওয়ায় মানসিক অবসাদ আরও বাড়তে থাকে৷

এছাড়া কাজের পরিবেশ মনের মতো না হওয়া, অনিয়মিত ডিউটি আওয়ার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পাওয়া ইত্যাদি নানা কারণে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন তারা৷ যার করুণ পরিণতি আত্মহত্যা৷ উর্দিধারীদের মধ্যে অবসাদ কাটাতে তাদের নিয়মিত কাউন্সেলিং শুরু হয়েছে৷ কাজের পরিবেশ যাতে আরও ভালো করা যায় সেই চেষ্টা করা হয়েছে৷ স্পোর্টসের মাধ্যমে আমোদ প্রমোদের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ থাকার পরিবেশ যতটা সম্ভব বাড়ির পরিবেশের মতো করে রাখা হচ্ছে৷