সিংহাসনে বসার আগে থেকেই নরেন্দ্র মোদী বারবার দুর্নীতি মুক্ত ভারত গঠনের কথা বলেছেন। আর ক্ষমতায় আসার পর দুর্ণীতি রুখতে একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। একাধিক অফিসারকে সরিয়ে দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক থেকে। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় একথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

এদিন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, ২০১৪ থেকে ২০১৯-এর মধ্যে ৯৬ জন গ্রুপ-এ অফিসারকে সময়ের আগে অবসর নিতে বাধ্য করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার মত দুর্ণীতির অভিযোগ ছিল বলে জানা গিয়েছে।

কয়েকদিন আগেই জানা গিয়েছে, আয়কর বিভাগ থেকে একধাক্কায় ২১ জনকে ছেঁটে ফেলেছে মোদী সরকার। এই অফিসারদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। সরকারি সূত্রের খবর, ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ছিল এইসব অফিসারের বিরদ্ধে। আর অফিসারের পদের অপব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে এদের বিরুদ্ধে।

এই সমস্ত কর্মকর্তা আয়কর বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। চলতি বছরের জুনের পর থেকে পঞ্চমবারের মতো সরকার দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে এবং

তাদের বাধ্যতামূলক অবসর থেকে বরখাস্ত করেছে। এবছর এখনও পর্যন্ত ৮৫ জন কর্মকর্তাকে জোর করে অবসর দেওয়া হয়েছে। এদের বিরদ্ধে ২০,০০০ টাকা থেকে ৬৫ লক্ষ পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ।

কেন্দ্রীয় সিভিল সার্ভিস ১৯৭২ এর বিধি ৫৬ (J) অনুযায়ী সরকার ৩০ বছরের চাকরি সম্পন্ন অথবা ৫০ বছর বয়সে পৌঁছেছেন এমন কর্মকর্তাদের চাকরি বাতিল করতে পারে।

নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ এবং তিন মাসের বেতন এবং ভাতা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো যেতে পারে। প্রতি তৃতীয় মাসে এই ধরনের কর্মকর্তাদের কাজ পর্যালোচনা করা হয় এবং যদি তাদের উপর দুর্নীতির অভিযোগ বা অযোগ্যতা / অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায় তবে জোর করে অবসর দেওয়া যেতে পারে।

মোদী সরকারে, ২০১৪, ২০১৫ এবং ২০১৭ সালে এই নিয়মটি গুরুত্ব সহকারে প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই মেয়াদে সরকার এখন এটি কঠোরভাবে প্রয়োগের জন্য তত্পরতা করছে। এখন পর্যন্ত কেবলমাত্র গ্রুপ এ এবং বি অফিসাররা এই নিয়মের সাথে জড়িত ছিল, এখন গ্রুপ সি অফিসাররাও এর মধ্যে এসেছেন।