নয়াদিল্লি: গত প্রায় কয়েকমাস ধরেই ভারত-পাক দ্বন্দ্ব বেড়েছে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পাকিস্তানের তরফ থেকে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করার একের পর এক ঘটনা। চলতি বছরের অগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই তিন মাসে লাইন অফ কন্ট্রোল বা (এলওসি)-তে প্রায় ৯৫০টি সংঘর্ষ বিরতির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত পক্ষে তিন জন জওয়ান।

সোমবার এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী শ্রীপাদ নায়েক।জম্মু-কাশ্মীরের সীমান্ত অঞ্চলে এমন সংঘর্ষ বিরতির ঘটনা ঘটেছে ৭৯টি।

এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী রাজ্যসভায় এ দিন বলেন, ‘পাকিস্তান লাইন অফ কন্ট্রোল বরাবর একাধিকবার সংঘর্ষ-বিরতি ঘটিয়েছে। গত তিন মাসে (অগস্ট থেকে অক্টোবর) জম্মু-কাশ্মীরের সীমান্তেও মোট ৭৯বার সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করে বিনা প্ররোচনায় হামলা চালিয়েছে পাক সেনা।’

তিনি আরও বলেন, ‘তথ্য মতে এখনও পর্যন্ত আমাদের তিন জন জওয়ান শহিদ হয়েছেন। সাত জন জওয়ান জখমও হয়েছেন।’

চলতি বছরে ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপর ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা চালায় পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন। এই হামলার জবাবে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বালাকোটে অভিযান চালায় ভারতীয় সেন। তছনছ করে দেওয়া হয় জঙ্গি লঞ্চপ্যাড। নিকেশ করা হয় ১০-১২ জন জঙ্গিকে। এরপর থেকেই ভারতের দিকে একাধিকবার সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করে গোলা বর্ষণ করেছে পাক সেনা।আসলে শীত পড়ার আগেই উপত্যকায় নাশকতা চালাতে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ করানোর লক্ষ্যেই এই গোলা বর্ষণ করে পাক সেনা। পাকিস্তানের গোলাবর্ষণের জবাব দিয়েছে ভারতও।

চলতি মাসেই কেন্দ্রের কাছে ভারতীয় গোয়েন্দারা রিপোর্ট দেন যে জম্মু-কাশ্মীরে শীতকালে নাশকতার ছক কষছে পাক মদতপুষ্ট বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করার পর থেকেই উপত্যকাকে অশান্ত করতে একের পর এক জঙ্গি হামলা চালিয়েছে লস্কর-ই-তৈবা,হিজাবুল মুজাহিদিন সহ বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন। গত মাসেই জাকির মুসার উত্তরসূরি তথা আল-কায়দার কাশ্মীর শাখার প্রধান হামিদ লেলহারিকে খতম করে দেয় ভারতীয় সেনা।