নয়াদিল্লি: ভারতে করোনা সংক্রমণ যাতে দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় পর্যায়ে না পৌঁছয় সেই চেষ্টাই করে চলেছে প্রশাসন। কিন্তু নিজামুদ্দিন মার্কাস থেকে যে সংক্রমণের ঘটনা ঘটছে তা ক্রমশ আশঙ্কা বাড়াচ্ছে ভারতে।

এনডিটিভি তে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, এখনো পর্যন্ত ৭৬০০ জন ভারতীয় এবং ১৩০০ বিদেশী কে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা নিজামুদ্দিন মার্কাজের ওই ধর্মীয় জমায়াতে অংশ নিয়েছিল। সেই জমায়েত বর্তমানে হয়ে উঠেছে ভারতের করোনা সংক্রমনের হটস্পট।

১ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে ওই জমায়েতে থাকা ১০৫১ জনকে কোয়ারেন্টাইন এ পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে ৭৬৮৮ জন ভারতীয় তাবলীগী জামাতের সদস্য এবং তাদের সংস্পর্শে আসা লোকজনকে আইসোলেট করা সম্ভব হয়।

তাবলিগি জামাতের অন্তত ৪০০ সদস্যের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওই জামায়াতে থাকা ১৯০ জন আক্রান্ত হয়েছেন তামিলনাড়ুতে, অন্ধ্রপ্রদেশে ৭১ জন, দিল্লিতে ৫৩ জন, তেলেঙ্গানা ২৮ জন, অসমে ১৩ জন, মহারাষ্ট্রের ১২ জন, আন্দামানের ১০ জন, জম্মু-কাশ্মীরে জন, পন্ডিচেরিতে দুজন এবং গুজরাটে দুজন আক্রান্ত হয়েছে।

ত ৩৬ ঘণ্টা মার্কাজ থেকে ২৩৬১ জনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬১৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। এখান থেকে বিভিন্ন রাজ্যে গিয়েছেন মানুষজন। ফলে সব রাজ্যকেই কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই ধর্মসভায় যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা শহরের ১৬টি মসজিদে ছিলেন। এঁদের মধ্যে কেউ এদেশের বাসিন্দা। আবার বিদেশ থেকে এসেও যোগ দিয়েছিলেন অনেকে। তাই দিল্লি পুলিশ স্পেশাল ব্রাঞ্চ মঙ্গলবার দিল্লির সরকারকে এই বিষয় তৎপর হয়ে পদক্ষেপ করার জন্য আবেদন করেছে।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাঁরা এই জমায়েতে অংশ নিতে গিয়েছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। অতি দ্রুত তাঁদের কোভিড পরীক্ষা করানো হবে এবং ১৪ দিনের জন্য তাঁদের আবশ্যিক কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হবে। ইতিমধ্যেই ৭১ জনকে চিহ্নিত করা গিয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।