বিশাখাপত্তনম: প্রথম ইনিংসে ভারতের ছুঁড়ে দেওয়া ৫০২ রানের জবাবে দ্বিতীয়দিনের শেষে প্রাথমিকভাবে ব্যাটিং বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। রবি অশ্বিন-রবীন্দ্র জাদেজার স্পিন ভেলকিতে ৩৯ রানে ৩ উইকেটে হারিয়ে দ্বিতীয়দিনের খেলা শেষ করে প্রোটিয়ারা।

৪৬৩ রানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয়দিন সকালে ব্যাট হাতে ক্রিজে নামেন গতকালের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান ওপেনার ডিন এলগার ও তেম্বা বাভুমা। দিনের সপ্তম ওভারে তেম্বা বাভুমাকে ফিরিয়ে প্রোটিয়া শিবিরে প্রথম ধাক্কাটা দেন ল্যাঙ্কি পেসার ইশান্ত শর্মা। এলগারের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ২৯ রান যোগ করে ব্যক্তিগত ১৮ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। ভাবা গিয়েছিল প্রোটিয়া শিবিরে সেই বোধহয় পতনের শুরু। কিন্তু ৬৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাটিং লাইন আপ অক্সিজেন পেল এলগার ও অধিনায়ক ডু’প্লেসির জুটিতে।

জাদেজা-অশ্বিনদের দুরন্ত সামলে তৃতীয় দিন প্রথম সেশনের শেষে কিছুটা ভালো জায়গায় প্রোটিয়ারা। পঞ্চম উইকেটে এলগার-ডু’প্লেসির ৯০ রানের অপরাজিত পার্টনারশিপে ভর করে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ৪ উইকেটে ১৫৩। ৮টি ভার ও ৩টি ছয় সহযোগে ৭৬ রানে ক্রিজে রয়েছেন ওপেনার এলগার। যোগ্য সঙ্গত দিয়ে অর্ধশতরানের দোরগোড়ায় অধিনায়ক ডু’প্লেসি। ক্রিজে ৪৮ রানে অপরাজিত তিনি। দ্বিতীয়দিনের তৃতীয় সেশনে বল হাতে ভেলকি দেখালেও তৃতীয়দিন প্রথম সেশনে উইকেটের দেখা নেই অশ্বিন ও জাদেজার ঝুলিতে।

এখন দেখার প্রথম ইনিংসে ভারতের পাহাড়প্রমাণ রানের জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংসকে কতটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে এই জুটি। অন্যদিকে বল হাতে ফের অশ্বিন-জাদেজা জুটির জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় কোহলিব্রিগেড। যত দ্রুত ভয়ঙ্কর উঠবে এই স্পিনিং জুটি, ততই প্রশস্ত হবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম টেস্ট জয়ের রাস্তা।

এর আগে দ্বিতীয়দিন ময়াঙ্ক আগরওয়াল ও রোহিত শর্মার রেকর্ড ৩১৭ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপে ভর করে ৫০২ রান তুলে প্রথম ইনিংস ডিক্লেয়ার ঘোষণা করে টিম ইন্ডিয়া। ২৩টি চার ও ৬টি ছয়ের সহযোগে রোহিত শর্মা ১৭৬ রানে আউট হলেও থামানো যায়নি ময়াঙ্ককে। প্রথম টেস্ট শতরানকে ডাবল টনে কনভার্ট করে ২১৫ রানে আউট হন ময়াঙ্ক। দক্ষিণী ব্যাটসম্যানের ইনিংসও সাজানো ছিল ২৩তি চার ও ৬টি ছয়ে।

দিনের শেষে কেরিয়ারের প্রথম দ্বিশতরানের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে উচ্ছ্বসিত ময়াঙ্ক। দক্ষিণী ব্যাটসম্যানের কথায়, ‘আমি দারুণ খুশি। এটা এমন একটা অনুভূতি যেটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। ভালোলাগছে প্রথন শতরানকে দ্বি-শতরানের নিয়ে যেতে পেরে। নিজের খেলায় আমি সন্তুষ্ট। ওপেনে নেমে এভাবেই পরবর্তীতে ব্যাটিং করে যেতে চাই। এভাবে রোহিত এবং আমি দলকে সবসময় যদি ৪০০-৫০০ রানের পুঁজি জোগাড় করে দিতে পারি, তাহলে সেটা দলের পক্ষে দারুণ ব্যাপার হবে।’